ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নেত্রকোনায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সুনেত্র ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এসময় তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নগদ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণ চন্দ্র বর্মণ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের ছোট বাজার এলাকায় ক্লিনিকটিতে অভিযান চালিয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিলগালাসহ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসময় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার উত্তম কুমার পাল, জেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল হক মানিকসহ পুলিশ সদস্যরা।
এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সদর হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানের ভাগ্নি লক্ষিগঞ্জ ইউনিয়নের আইরিন পারভীন ঝর্ণা (৩৫) নামের এক প্রসূতিকে সিজার করতে গিয়ে মূত্রথলি কেটে ফেলেন ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ সরকার। সেই রোগীকে সহযোগীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে অন্য আরেকটি সিজারে চলে যান কলিং ডাক্তার নামে পরিচিত জীবন কৃষ্ণ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের খবরে আবারো এসে ওটি করে প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেলেন তিনি। এদিকে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েই প্রসূতি মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকে। পরপর তিনটি অপারেশনের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ১৪ ব্যাগ রক্ত দিয়েও আর বাঁচানো যায়নি ঝর্ণাকে। তার স্বজনসহ পরিবারের লোকজন জানান তড়িঘড়ি করে এই ডাক্তার এমন কাজটি করেছে। সময়ই দেয়নি জানা বোঝার জন্য।
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সাধারণ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এর আগেও গত জানুয়ারি মাসে একই ডাক্তার শহরের আল নূর ক্লিনিকে রোজীনা নামের আরেক প্রসূতির সিজারে এমন মৃত্যুবরণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়। পরে টাকার বিনিময়ে সেটিও মীমাংসা হয়। এরই মাঝে নেত্রকোনা নার্সিং হোমে শহরের শিবগঞ্জ রোডের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় নার্সিং হোমটি বন্ধ হয়ে যায়। বারবার একই ডাক্তার এমন ঘটনা ঘটিয়ে গেলেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্লিনিকের মালিকরাও বলছেন, তিনি সিজার করেন আর এর দায় নিতে হয় ক্লিনিককে।
এ ব্যাপারে জেলার সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন রকমের চাপ আসছে। তারপরও খবর পেয়ে আমরা প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমার বিষয়ে তিনি বলেন প্রচণ্ড চাপ আসায় তদন্ত নিয়ে বিপাকে।
















