ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণেই বিএসএফ বাংলাদেশী খুনের নেশায় মেতেছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী।
সীমান্ত অঞ্চলে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের খুনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আজ (২১ অক্টোবর) বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ’র বাংলাদেশী খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত মাসের ১৯ তারিখ ঢাকায় দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফ প্রধান সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রু দিয়ে গেলেও তারা কথা রাখেনি। এই প্রতিশ্রুতির পর একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার খবর এসেছে।
গত বছরের প্রথম সাড়ে আট মাসে বিএসএফ ২৮ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছিল। চলতি ২০২০ সালের ৯ মাসে প্রায় অর্ধ্বশত বাংলাদেশীকে বিএসএফ হত্যা করেছে। এছাড়াও সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড ও নদীতে প্রায়ই বাংলাদেশীর রহস্যজনক লাশ পাওয়ার ঘটনা খবরে আসে। সবমিলিয়ে বিএসএফ যেন বাংলাদেশিদের হত্যার প্রতিযোগিতা ও নেশায় মেতেছে।
তিনি বলেন, বিএসএফ’র নির্বিচার বাংলাদেশী খুনের বিরুদ্ধে সরকারীভাবে কার্যকর পদক্ষেপ তো দূরের কথা, মৌখিক কড়া প্রতিবাদ জানাতেও আমরা দেখছি না। এটা গভীর বেদনাদায়ক, লজ্জার ও নিন্দনীয়। সরকারের দুর্বল জনসমর্থন এবং ভারত নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বিএসএফ এমন দুঃসাহস দেখাতে পারছে।
আল্লামাা কাসেমী বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশীদের যে হারে নির্বিঘ্নে খুন করে চলেছে, বিশ্বে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।
তিনি বলেন, নেপাল ভূটানের মতো ছোট দেশও ভারতের যে কোন আগ্রাসী তৎপরতার দৃঢ় জবাব দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় কার্যকর কিছুই করছে না। যে কোন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জান-মাল ও ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও সরকার সেই কর্তব্যবোধ লাগাতার বিস্মৃত হয়ে থাকলে জনগণের ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠতে সময় লাগবে না। তখন উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায় সংশ্লিষ্টদেরকেই নিতে হবে।
















