ওই মুহাব্বতের ওপর জান কোরবান  

তৈয়বা রেযা ।।  –আমেরিকা থেকে

মুখের ভাষায় আল্লাহ তায়ালার হাবিবের প্রতি ভালবাসা ব্যক্ত করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় স্বয়ং রব্বুল ইযযত ছাড়া। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার ওপর সালাত (দুরুদ) এর হক আদায় করতে চাইলেও করতে পারবে না। তাই আল্লাহর কাছেই দোআ করো, তিনি আমার ওপর সালাত-রহমত বর্ষণ করুন।

প্রকৃতপক্ষে গুনাহগার বান্দার মর্যাদাই বা কী? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুগ্রহরাজির বিনিময় বান্দা পরিশোধ করতে পারবে না। আল্লাহই তার প্রতিদান দিতে পারবেন। এমনকি আমাদের অন্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুহাব্বত এবং আনুগত্যও আল্লাহই সৃষ্টি করতে পারেন। অতএব, ইনসানিয়াত ও মানবতার অনুগ্রহকারী রাসূল বান্দাকে তার খোদার সঙ্গে কথা বলার এবং প্রার্থনা করার ঢংও শিখিয়ে দিয়েছেন যে, সে যেন আল্লাহর সমীপে নিজ অক্ষমতা স্বীকার করে আরয করে, হে আল্লাহ!  তোমার নবীর ওপর দুরুদ ও সালাতের যে হক রয়েছে, সেটা আদায় করা আমার সাধ্যে নেই। তুমিই আমার তরফ থেকে তা করে দাও এবং আমার থেকে তা আদায় করার জন্য যে খেদমত চাও নিয়ে নাও।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে যে দুরুদ (দুরুদে ইবরাহীমী) শিখিয়েছেন তার মধ্যে একথাটি রয়েছে যে, তাঁর প্রতি (আল্লাহর রাসূলের প্রতি) তেমনই অনুগ্রহ-দয়া করুন যেমনটি হযরত ইবরাহীম এবং ইবরাহীমের পরিবারের প্রতি করেছেন। اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদের উদ্দেশ্য হলো, যারাই নবুওতকে বিশ্বাস করে, তারা যেন আমার নবুওতের প্রতি ঈমান আনা থেকে বঞ্চিত না হয়ে যায়।

বান্দা তার স্বপ্ন এবং কাশফ-কারামাতের নয়, নিজ আমলের প্রতি দায়বদ্ধ। ফানা ফিররসূল- রসূলের প্রতি আত্মবিলীন উম্মতি দুনিয়ার প্রতি অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। দুনিয়াতে প্রয়োজন পরিমাণ বেঁচে থাকা পছন্দ করে। দুনিয়ার নাপাকি থেকে নিজের জীবনকে রক্ষা করার চেষ্টায় রত থাকে। যেমন নৌকা নদীতে বিচরণ করে কিন্তু তার আরোহী নিজের কাপড়কে ভিজে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে। তেমনি মুমিনও দুনিয়াতে থাকে। দুনিয়ার অন্তরে বসবাস করে। কিন্তু দুনিয়াকে নিজের অন্তরে বাস করতে দেয় না। রাসূলপ্রেমের মাহফিলের আয়োজন থেকে নাত-গযল পরিবেশনকারীদের রোজগারের ব্যবস্থা হয়। শ্রোতারা লাভ করে সাময়িক আনন্দ। কিন্তু নবীর ইশক পেতে হলে দুনিয়ার পুলসিরাত পার করতে হয়। নফসের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান শানে নাত পরিবেশন করে যে মর্যাদা হযরত হাসসান বিন সাবেত রা. লাভ করেছেন, তার পরে কোনো নাত পরিবেশকের ভাগ্যে তা জোটেনি। তিনি ষাট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এরপর বাকি জীবন নবীজির মুহাব্বতের কবিতা আবৃতি করে কাটিয়ে দিয়েছেন। তার অবস্থার সম্পর্কে হযরত আল্লামা ইকবাল রহ. বলেছেন, ‘ইশক আমার ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে/ফলে এই ইশক আমার আত্মাকে ভস্ম করে দিয়েছে।’

ওলী হওয়ার বড় আলামত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য। আর নবীর আনুগত্যই খোদার আনুগত্য। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর ওলী হচ্ছেন তারা, যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়ে যায়।

উম্মত প্রিয়নবীর সম্পর্ক নিয়ে গর্ব করে; কিন্তু আমল এই উপযোগী নয় যে, আমরা আল্লাহর হাবীবের প্রতি মুহাব্বতের দাবি করতে পারি। মুহাব্বত তো আল্লাহ করেছেন তার হাবীবের প্রতি। সেই মুহাব্বতের ওপর লাখো সালাম।

ভাষান্তর: খলিল খালেদ 

পূর্ববর্তি সংবাদচীন-পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের তারিখ ঠিক করে রেখেছেন মোদি: বিজেপি নেতা
পরবর্তি সংবাদ’মারধর ও হত্যাচেষ্টা’য় মামলা: হাজী সেলিমের ছেলে গ্রেফতার