‘সরকারের আপত্তি থাকায়’ মাহফিলে আসেননি মাওলানা মামুনুল হক: বাবুনগরী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: হেফাজত আমীর মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ‘সরকার ও প্রশাসন থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। মাওলানা মামুনুল হকের মাহফিলে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তি থাকায় তিনি আসেননি।’

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আল আমিন সংস্থা আয়োজিত তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে বয়ানে একথা বলেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে পৌঁছান বাবুনগরী।

মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, মুরব্বীদের পরামর্শক্রমে আল আমিন সংস্থার মাহফিলে বয়ান করবেন না মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি আরও বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম সবসময় শান্তির পক্ষে। মাওলানা মামুনুল হক না আসলেও, তার নামে কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে, তাকে অপমান করা হয়েছে, আমরা সরকারের কাছে এর প্রতিকার চাই।’

‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। হেফাজতে ইসলামও কোনো অরাজকতা চায় না’, যোগ করেন তিনি।

মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘কোনো সরকারের বিরুদ্ধে নয়, কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের প্রতিবাদ ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে। ইসলাম রক্ষায় আমাদের প্রতিবাদ চলবে।’

এই মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মাহফিল স্থলে আসেননি মাওলানা মামুনুল হক।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে ধোলাইর পাড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনকে ইসলাম বিরোধী বলায় চটে যায় সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের সংগঠন ছাত্রলীগের কিছু নেতা।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকের চট্টগ্রামের এ  দ্বীনী মাহফিলে অংশগ্রহণ ঠেকাতে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ভাষায় ‘যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হবে’ ‘বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হবে’— এমন হুংকার ছেড়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু পরে কেন্দ্রের নির্দেশে সেই অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে সড়কের ওপর অবস্থান নেন যুবলীগের কয়েক ডজন নেতা-কর্মী। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চু এতে নেতৃত্ব দেন। পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে বিকেলে মাওলানা মামুনুল হক বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে হাটহাজারী এসে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর গুঞ্জন উঠে সন্ধ্যায় তিনি মাহফিলে আসবেন।

সবশেষে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মাহফিলে ‘সরকারের আপত্তি’ থাকায় মাওলানা মামুনুল হকের না আসার কারণ হিসেবে ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে কোথাও কোনো আলেমের দ্বীনী মাহফিলে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের পুলিশ ও দলীয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এমন মরিয়া হওয়ার ঘটনা বিরল।

আরো পড়ুন: ভাস্কর্য ইস্যু: ঢাকায় তাওহীদী জনতার মিছিলে লাঠিচার্জ, চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের ‘উস্কানি’

পিছু হটল চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ, মাওলানা মামুনুল হককে মাহফিলে বাধা দেবে না

‘ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে দেশের আলেম সমাজের বিরোধিতা ঈমানী দাবির অংশ’

ভাস্কর্য থেকে মূর্তি এবং মূর্তি থেকে ভাস্কর্য : এটাই ইতিহাসের সারকথা

পূর্ববর্তি সংবাদআর্মেনিয়ার পরাজয়ে হতাশ ফ্রান্স, ‘যুদ্ধবিরতি উচিত হয়নি’-বললেন ম্যাক্রো
পরবর্তি সংবাদআরব সাগরে ভারতের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত