ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় তুচ্ছ ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে এক পথচারীর উপর হামলা করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং। রাস্তা বন্ধ করে কিশোর গ্যাংয়ের সাত-আটজন সদস্য দুই দফায় তাকে বেধড়ক মারধর করে। তার জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ সময় বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রায় বিশ-পঁচিশ মিনিট যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।
মঙ্গলবার রাতে চাষাঢ়ার বিজয়স্তম্ভের নিকটবর্তী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রিপারেটরি স্কুলের মধ্যবর্তী বঙ্গবন্ধু সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত আলমগীর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার রবিনের বাড়ির ভাড়াটে।
আলমগীর হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় শহরের আমলাপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে অনিক (১৭) ও তার এক বন্ধু মোটরসাইকেল বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাওয়ার সময় তার শরীরে ধাক্কা লাগলে তিনি ব্যথা পান।
আলমগীর প্রতিবাদ করলে অনিক তাকে চড়-থাপ্পড় মারে। উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অনিক ও তার বন্ধু বাহার নামে তাদের এলাকার কথিত বড় ভাইসহ কয়েকজনকে ফোন করলে মুহূর্তের মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে ছয়-সাতজন ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়।
এরপর সবাই মিলে তাকে প্রায় পনেরো মিনিট এলোপাতাড়ি চড় থাপ্পড় ঘুষি লাথি মেরে আহত করে। দুই তিনজন তাদের মাথার হেলমেট খুলে সেটি দিয়ে তার মাথায় একের পির এক আঘাত করে। তার জামা কাপড় টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলে।
একপর্যায়ে তার শার্টের পকেটে রাখা সাড়ে আট হাজার টাকা ছিনতাই করে হুমকি দিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা।
এ ঘটনার পর আশপাশের লোকজন আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে সদরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে সদর মডেল থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
আহত আলমগীর হোসেনের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হামলাকারীরা আমার ভাইয়ের কানে বেশ কয়েকটি লাথি দিয়েছে। যার কারণে ভাই শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। কানে কিছুই শুনছেন না।
এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আমলাপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, অনিকের মা ফতেহ ও বাবা চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা ইতিপূর্বে চাষাড়া হকার্স মার্কেটের পেছনে ঋষিপাড়ায় ভাড়া থাকত। ইয়াবা বিক্রির কারণে এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি কয়েক মাস আগে বিচার সালিস ডেকে তাদেরকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে দেয়। এরপর থেকে তারা আমলাপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকে। সেখানেও এই নারী, তার স্বামী ও ছেলে অনিক ইয়াবার ব্যবসা করছে। পাশাপাশি অনিক কিশোর গ্যাং তৈরি করে আমলাপাড়া, মাছুয়াপাড়া, মিশনপাড়া, ডনচেম্বার ও খানপুর এলাকায় ছিনতাই এবং ইয়াবা বিক্রির নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের এই কিশোর গ্যাংকে সেল্টার দিচ্ছে মাছুয়াপাড়া এলাকার বাহার নামে এক ব্যক্তি। অনিকের ফোন পেয়ে এই বাহারের নেতৃত্বে কিশোর বয়সের একটি গ্যাং তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থলে এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও তাণ্ডব চালায়।
ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক পরিমল বলেন, খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের গ্রেপ্তার করতে মাছুয়াপাড়া ও আমলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাইনি।
তিনি বলেন, অনিকের ব্যাপারে এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নিয়েছি। তার মা ইয়াবার ব্যবসা করে বলে পঞ্চায়েত কমিটি তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করায় বর্তমান ঠিকানা কেউ বলতে পারছে না। তবে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা এলাকার দায়িত্বে থাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, আমরা অভিযোগ গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে আমরা আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তাদের মাধ্যমে বখাটে কিশোরদের বুঝিয়ে অপরাধমূলক কাজ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাত আটটার দিকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে মোবাইল চোর আখ্যা দিয়ে শান্ত নামে শনির আখড়া এলাকার এক যুবককে প্রকাশ্যে মারধরসহ তাণ্ডব চালায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা-পুলিশ।
-এনটি
















