অবৈধ পথে অবাধে আসছে রোগাক্রান্ত ভারতীয় গরু, জড়িতদের বেশিরভাগ প্রভাবশালী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাটের দনাসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে রোগাক্রান্ত ভারতীয় গরু আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ফলে এ গরুর মাংসে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকছে, ঠিক তেমনিভাবে দেশীয় প্রজাতির গবাদিপশুতে ক্ষুরাসহ নানা রোগও ছড়িয়ে পড়ছে।

সীমান্তবর্তী একাধিক সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কয়েক মাস ভারত থেকে অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধ ছিল। তবে চলতি মাসে এসব গরু ফের আসতে শুরু করেছে। আর অবৈধভাবে আনা এসব গরু স্থানীয় সড়কের বাজারের পশুর হাটে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখান থেকেই ট্রাকে করে তা নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সড়কের বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, মধ্যরাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতীয় গরু এই বাজারে আসে। আর দুপুরের আগেই সব গরু সেখান থেকে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের কথার প্রমাণ মিলেছে সরেজমিন অনুসন্ধানেও।

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে দনা বাজারে গিয়ে ৫ শতাধিক ভারতীয় গরু বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। আর এসব গরু নিতে ছোট পিকআপ এবং ট্রাকের সারিও ছিল বেশ লম্বা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গরু চোরাচালানের সাথে জড়িতদের বেশিরভাগই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। মূলত রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমেই তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবাধে ভারতীয় গরুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতেও চান না।

এ বিষয়ে চোরাচালানে নাম আসা সড়কের বাজারের ইজারাদার জয়নাল এবং গরু ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তাদের ফোন রিসিভ হয়নি।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম পিএসসিও দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “সীমান্ত এলাকা খোলা থাকায় এক সাথে ১০০-১৫০ শ্রমিক ভারত থেকে গরু আনতে যায়। অনেক সময় এসব শ্রমিক বিজিবি টহল দলের ওপর আক্রমণ করে। এমনকি বিজিবি টহল দলের ওপর তারা পাথর নিক্ষেপ করে। এ সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান বন্ধের চেষ্টা হচ্ছে।”

উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাস্টার মহিউদ্দিন বলেন, “ভারতীয় গরুর মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর চোরাচালানে অবৈধভাবে গরু নিয়ে আসার কারণে দেশের খামারীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ কারণে চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “ভারত থেকে বৈধপথে পশু আমদানি করা হতো খাটালের মাধ্যমে। কিন্তু কয়েক বছর থেকে খাটাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর অবৈধ পথে চোরাচালানের মাধ্যমে যেসব পশু আসে; তার বেশিরভাগই রোগাক্রান্ত আর অস্বাস্থ্যকর। এছাড়া বিভিন্ন স্টেরয়েড দিয়ে এসব পশু মোটাতাজাও করা হয়; ফলে এর মাংস মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। পাশাপাশি চোরাচালানে আসা পশু থেকে দেশি গবাদিপশুতে ক্ষুরাসহ বিভিন্ন ছোঁয়াছে রোগ ছড়ায়।”

সিলেট জেলা পুলিশের কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, “সীমান্ত দিয়ে পশু আসা বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে চোরাইপথে পশু নিয়ে আসা বন্ধ ছিল। তবে নতুন করে পশু আসার বিষয়টি জানা নেই।”

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদঅর্জন আর কল্যাণে ভরে উঠুক নতুন বছর
পরবর্তি সংবাদকর্মচারিদের করোনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বন্ধ ঘোষণা