শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমোদন দিল সরকার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: কোভিড-১৯ রোগীদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর বাংলাদেশে এই টেস্টের অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রোববার বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেছেন, অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

”অনেকদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি দেয়ার জন্য। এখন এটা চালু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আজ আপনাদের যখন বললাম, তখন থেকেই এটা চালু হয়ে গেছে,” বলছেন জাহিদ মালেক।

শরীরে নির্দিষ্ট কোন রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা, সেটি পরীক্ষা করার জন্য শরীরের রক্তের নমুনা নিয়ে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়ে থাকে।

এর মাধ্যমে কেউ করোনাভাইরাস বা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা, সেটা বুঝতে পারা যায়।

এর আগে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. জাফরুল্লাহ, ড. বিজন শীলসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনেকবার অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু তখন অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করার অনুমতি দেয়া হলেও এতদিন ধরে অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি ছিল না।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর পরামর্শক কমিটিও তাদের সভায় অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্টের ওপর গুরুত্বারোপ করে। কমিটি তাদের সভা শেষে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তখন বলেছিল, বর্তমানে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার পরিমাণ তুলনামূলক কম। কোভিড-১৯ পরীক্ষা বৃদ্ধি করতে পারলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আরও বেশি শনাক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য জাতীয় পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য একাধিকবার পরামর্শ দেয়।

জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে, তিন পদ্ধতিতে (পিসিআর, অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট) কোভিড-১৯ পরীক্ষা কার্যক্রম পাশাপাশি থাকলে তা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার দেশে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি দেয়।

এর আগে গত ৩ জুন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি করোনা শনাক্তে র‌্যাপিড টেস্টের জন্য সুপারিশ করে। তারা আরটি পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজ রিঅ্যাকশন) পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার পক্ষেও মত দেন।

কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এখন সেরোসার্ভিল্যান্স নিয়ে কাজ করার সময় এসে গেছে, যার জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু করাও প্রয়োজন। এটা করা গেলে বিশ্ব মহামারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংক্রমণ পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ বুঝতে হলে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করা জরুরি। সেরোসার্ভিল্যান্স ছাড়াও অ্যান্টিবডি টেস্টের গুরুত্ব রয়েছে প্লাজমা থেরাপির জন্য।

কোভিড-১৯ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা সম্প্রসারণ নীতিমালা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘মহামারির সময়ে ইনফেকশন কতজনের হয়েছে, সেটা অ্যান্টিবডি টেস্ট ছাড়া বলা যায় না। তাই এ সময়ে অ্যান্টিবডি টেস্ট খুব জরুরি, নয়তো পরিসংখ্যান সঠিক হবে না। আসলে দেশে কতজন সংক্রমিত হয়েছে, আবার কতজনের শরীরে অ্যান্টিবডি গ্রো করেছে, কিন্তু পোস্ট কোভিড সিন্ড্রোমে মারা গেছেন, সেটা জানার জন্য হলেও অ্যান্টিবডি টেস্ট দরকার।

-আরএম

পূর্ববর্তি সংবাদপশ্চিম আফ্রিকা উপকূলে তুর্কি জাহাজে জলদস্যুর হামলা, নিহত ১, অপহৃত ১৫ জন
পরবর্তি সংবাদলতিফ সিদ্দিকীর দখলে ছিল ৫০ কোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি; আজ উদ্ধার