‘স্বার্থে আঘাত না আসা পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যাবে না বেইজিং’

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মিয়ানমারের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের মতামত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্বার্থে আঘাত না আসা পর্যন্ত মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানকারীদের রক্ষা করবে চীন।

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দ্য ইরাবতিতে প্রকাশিত একটি মতামত প্রতিবেদনে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক অং জো এ দাবি করেন।

তিনি বলেছিলেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিলেও মিয়ানমারের সরকার কে হবে, তা নিয়ে চীনের কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন শুধু ওই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে আগ্রহী। সে স্বার্থে আঘাত না আসা পর্যন্ত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বেইজিং।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিসহ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে সেনাবাহিনী। এরপর অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া সেনা সদস্যরা একটি সুপ্রিম কাউন্সিলও গঠনের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং।

এদিকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাগ্রহণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সেইসঙ্গে দেশটির নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম ইউএন নিউজে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

একদিন আগে, মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিতে জাতিসংঘকে বাধা দেয় দেশটির ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন ও রাশিয়া। এ বিষয়ে দেশ দুটি অবস্থান পরিবর্তন করলে এ বিবৃতি আসলো নিরাপত্তা পরিষদ থেকে।

সকল বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয় বিবৃতিটিতে। সেইসঙ্গে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখা, সহিংসতা থেকে বিরত থাকা এবং মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা ও আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি জোর দেওয়া হয়।

বুধবার সু চির বিরুদ্ধে অবৈধ ওয়াকিটকি রেডিও রাখার অভিযোগ আনে পুলিশ। আদালত তাকে রিমান্ডের জন্য ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠায়। এর দুই দিন আগে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তাকেসহ প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও ক্ষমতাসীন দল এনএলডির শীর্ষনেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবৃতিতে মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ঐক্যের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা।

রাখাইন অঙ্গরাজ্যের সংকট সমাধান, বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। তবে বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শব্দ উহ্য রাখা হয়।

এ ছাড়া দেশটির নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা নিয়েও উদ্বেগ জানায় নিরাপত্তা পরিষদ।

-এনটি

পূর্ববর্তি সংবাদবাংলাদেশি মুসলমানদের একটি অংশ খুবই সাম্প্রদায়িক: আসামের বিজেপি নেতা
পরবর্তি সংবাদ‘সরকারের রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে যে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে’