ইনসাফ না থাকলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা থাকে না : মুফতি নুরুল আমিন

মুফতি নুরুল আমিন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট আলেম ও শায়খুল হাদিস। শাহ হাকিম আখতার রহ.-এর অন্যতম খলিফা। কথা বলেছেন ইনসাফ ও মানবজীবনে তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তার সঙ্গে কথা বলেন আতাউর রহমান খসরু।


 

ইসলাম টাইমস : ইনসাফ কাকে বলে? আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়াই কি ইনসাফ?

মুফতি নুরুল আমিন : ইনসাফ হলো, অধিকার আদায় করা। যার যেটা প্রাপ্য সেটা আদায় করে দেয়ার নাম ইনসাফ। ইনসাফের বিপরীত শব্দ জুলুম বা অবিচার। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ইনসাফের ধারণা অনেক বিস্তৃত। মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় আইন-আদালত পর্যন্ত সবকিছুতেই ইনসাফ করা আর না করার দিক আছে। যেমন, কারো যদি দুটি সন্তান থাকে এবং সে তার এক সন্তানকে বেশি যত্ন করলো; ইসলামের দৃষ্টিতে এটা ইনসাফ হবে না।

আরেকটু খুলে বললে, ইসলামের আদাবুল মুয়াশারাত বা সামাজিক শিষ্টাচারের ভিত্তিই হলো ইনসাফ। ইসলাম সামাজিক জীবনে যা বলে তা ইনসাফ। আর ইসলাম যা কিছু নিষেধ করে তা জুলুম। যদিও সব ইনসাফ ও সব জুলুমের আকার-স্তর সমান নয়। তার বিধানও সমান নয়।

ইসলাম টাইমস : সমাজের জন্য ইনসাফ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজনীয় কেন?

মুফতি নুরুল আমিন : শুধু সমাজ না, মানুষের জীবনেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইনসাফের সাথে আল্লাহ ও তার সৃষ্টির অধিকার জড়িত। সবাই যখন তার অধিকার পেয়ে যায়, তখন সমাজে অশান্তি থাকে না। আর যখন কারো অধিকার নষ্ট হয়, তখনই মানুষের জীবনের, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়।

ধরুন! একজন মানুষের অধিকার হলো, সে সত্য কথা বলার স্বাধীনতা পাবে। যখন কেউ তার এই অধিকার কেড়ে নেবে, তখন এই লোকের মনে অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সে স্বাধীনতা হরণকারীর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে, প্রতিশোধ নিতে চাইবে। ইনসাফ না থাকলে সমাজে এভাবেই অশান্তি তৈরি হয়।

ইসলাম টাইমস : ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব কার?

মুফতি নুরুল আমিন : প্রত্যেকেই তার ক্ষমতার ও দায়িত্বের জায়গায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। বাবা পরিবারের প্রধান হিসেবে নিজস্ব কিছু ক্ষমতা রাখেন, তাই তার দায়িত্ব হলো পরিবারে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এইভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বপালনকারী –তিনি এমপি-মন্ত্রীও হতে পারেন আবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসারও হতে পারেন আবার সমাজের সাধারণ একজন মাতব্বারও হতে পারেন। যার ক্ষমতার পরিধি যতো বিস্তৃত তার দায়িত্ব ততো বেশি।

ইসলাম টাইমস : যদি কেউ এই দায়িত্ব অবহেলা করেন? ইনসাফের পরিবর্তে জুলুম করেন?

মুফতি নুরুল আমিন : তাহলে তার দায়িত্ব ও জুলুম অনুযায়ী শাস্তি হবে। বড় নেতার বড় শাস্তি, ছোট নেতার ছোট শাস্তি। বড় জুলুমের বড় শাস্তি, ছোট জুলুমের ছোট শাস্তি। ভালো কাজ করলেও আল্লাহ তার যথাযথ প্রতিদান দেবেন। আবার মন্দ কাজ করলেও তার সঠিক বিচার করবেন।

পূর্ববর্তি সংবাদধর্ষিতার সাথে সাক্ষাতের পর মির্জা ফখরুল: সুবর্ণচরের ঘটনার বিচার করতে হবে
পরবর্তি সংবাদমাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর সহধর্মিনী আইসিইউ-তে ভর্তি, দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা