ইসলাম টাইমস ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখার জন্য সরকার তার দুর্নীতিবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে।
রোববার প্রথম কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও কোনো দেশের পক্ষেই শতভাগ দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সরকারের একটা দায়িত্ব হল এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাতে এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এবং আমাদের সব সাফল্য ম্লান করে না দেয়।’
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা দেশে বারবার ঘটেছে। কিন্তু আমরা দেশকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। প্রযুক্তির বদৌলতে এ সাফল্য এসেছে এবং এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা ভালো ফল।
তিনি বলেন, ‘আমরা আর অপরের ওপর নির্ভরশীল থাকব না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যেন দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই যে বা যারা দেশের ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবে এবং উন্নয়নকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে বিশ্ববাসী আমাদের দেশকে সম্মানের চোখে দেখে থাকে। কিন্তু এক সময় বাংলাদেশ খরা, দুর্ভিক্ষ, বন্যার দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছিল। যা আমাদের কষ্ট দিত। আর আমরা এটাকে সহ্য করতে চাই না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমনকি পাকিস্তানি জনগণ আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে বাংলাদেশের মতো তাদের দেশকে রূপান্তরিত হতে দেখতে চায় এবং এর চেয়ে আনন্দের মুহূর্ত আর হতে পারে না।’
শেখ হাসিনা চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, তাদের (সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী) কর্মকাণ্ডে গতি আনতে তিনি তার আগের মেয়াদগুলোর মতো শিগগিরই মন্ত্রণালয়সমূহ পরিদর্শন শুরু করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০-২০২১ সালে ব্যাপক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ড. মসিউর রহমান, ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী এম আবুল কালাম আজাদ।
















