আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা : যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখা উচিত

সৈয়দ শামছুল হুদা ।।

তাবলীগ জামাতের চলমান সংকটকে সামনে রেখে আগত বিশ্বইজতেমা নিয়ে আমাদের হিসাব-নিকাশ একটু সতর্কভাবে করা দরকার। বড়দের গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশ্যে, যথেষ্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে গ্রহন করা দরকার। সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার হওয়া দরকার। নতুবা ১লা ডিসেম্বরের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

ইজতেমা নিয়ে এবং সাদপন্থী ও উলামা হযরাতদের অনুসারী যারা তাদের মধ্যে যে ধরণের বিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিণতি কঠোর ও ভয়ঙ্কর হতে পারে । উলামায়ে কেরাম যতই সরলতা, সততার সাথে দ্বীনের মেহনতকে আপন করে নিন না কেন, সাদ সাহেবের অন্ধ অনুসারীরা কিন্তু আলেম সমাজকে আর সহজভাবে গ্রহন করছে না। তাদের কথা-বার্তা মোটেও দ্বীনের জন্য, দাওয়াত ও তাবলীগের সঠিক মেজাজের জন্য অনুকূল নয়। তারা এখন দ্বীন থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে গিয়ে একজন ব্যক্তির অন্ধ অনকরণকেই দ্বীনের মেজাজ বানিয়ে নিচ্ছে।

একটি বিশ্বস্তসূত্রে খবর পেলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ অফিসে উলামা হযরাত এবং সাদপন্থীরা ইজতেমা বিষয়ে একজায়গায় বসেছিল। সেখানে মাগরিবের নামাযে কারো অধীনে কেউ নামাযটা পর্যন্ত পড়তে রাজি হয়নি। আলাদা আলাদা জামাত করেছে। সেখানে কীভাবে এটা চিন্তা করা হচ্ছে যে, দু’ পক্ষ একসাথে টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমা আয়োজনে সম্মত হবে এবং সেটা নিরাপদ থাকবে?

সাদ অনুসারীরা কোন কিছুরই পরোয়া করছে না। মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রীর আহবানে আয়োজিত সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়েই ভিন্নমত প্রকাশ করছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এ বছর সাদ সাহেব আসবেন না। ওরা বলছে সাদ সাহেব ছাড়া ইজতেমা হয় কী করে? ওরা বলছে, ইজতেমা ময়দানে উলামা হযরাত, তুলাবা, ফুকাহায়ে কেরাম, পীর-পীরানিরা কেউ কোন কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, গন্ডগোল করতে পারবে না এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর তাদের অন্ধ অনুসারী গরুর দল চিৎকার দিয়ে বলছে, আলহামদুলিল্লাহ।

এহেন অবস্থায় একসাথে ইজতেমা হলে রক্তপাতের সমূহ সম্ভাবনা। যেখানে মাওলানা(!) আশরাফ আলী বলছে, মাঠে দা, বটি, বাঁশ, চটা, খুটি থাকবে সে অবস্থায় কখন কী ঘটনা ঘটে তার নিরাপত্তা কে দিবে? সেখানে উলামায়ে কেরাম এবং মাদ্রাসা ছাত্ররা কতটা নিরাপদ? গাজীপুরের পুলিশ প্রসাশন ১লা ডিসেম্বর কোন প্রকার নিরাপত্তা দিতে পারেনি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শত আবেদনও কাজে আসেনি, তাহলে সাদ অনুসারীরা কার কথা পরোয়া করবে?

১লা ডিসেম্বরের ঘটনায় ওরা সামান্যতমও অনুতপ্ত নয়। একসাথে যদি ইজতেমা হয়-ই, দেখা যাবে মাঠে প্রতিটি কাজ নিয়ে বিশৃংখলা করবে। ওরা মাদ্রাসা ছাত্র, এবং আলেমদের কোন রকম সহ্য করতে পারছে না। সেই অবস্থায় মাঠের কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহন, পাহারা, বিদেশি জামায়াতের খেদমত, বয়ান, তাশকীল, খিত্তাহ বন্টন, মাঠে অবস্থান প্রতিটি কাজেই বিরোধ সৃষ্টি হবে। আলেম-উলামাদের কোন কাজেই ওরা সহযোগিতা করবে না। বরং রক্তচক্ষু দেখাবে। তখন প্রতিবাদ করলেই দুর্ঘটনা ঘটবে। পুলিশ প্রশাসন কয়টা ঘটনা সামলাবে? কয়টার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবে?

১লা ডিসেম্বর যখন ওরা গণপিটুনী দিচ্ছিল, তখন পুলিশের ভাষ্য ছিল, আমরা কাকে রেখে কাকে সামলাবো? কে সাদপন্থী আর কে উলামাপন্থী এটাতো কারো গায়ে লেখা ছিল না, সবাইতো হুজুর। এ যুক্তি তো ইজতেমাতেও দেখা দিবে।

এহেন অবস্থায় আমার আকুতি এই যে, সাদ অনুসারীদের আলাদাভাবে ইজতেমা করতে সুযোগ দেওয়া হোক এবং উলামা হযরত আলাদা ইজতেমা করুক। প্রতি বছরতো দুই পর্বেই ইজতেমা হতো, তাহলে আগে পরে সরকার ভাগ করে দিক, কে কখন করবে। এক সাথে করার যে সকল যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটা আরো বেশি ক্ষতির কারণ হয় কী না? ভেবে দেখতে হবে।

মাঠে যদি সাদ অনুসারী ১০০জন থাকে, আর উলামা হযরাত যদি ১০০০জনও থাকে, তবুও ওদের সাথে হুজুররা পারবে না। কারণ ওরা হিংস্র, নিষ্ঠুর, ওরা চরমভাবে ব্যক্তির পূঁজারী। চরমভাবে ওরা মিথ্যাবাদী। এ অবস্থায় জোড়াতালির কাজ করে লাভ কি? যে পরিবেশে একওয়াক্ত নামায একসাথে আদায় করতে কেউ কারো অধীনে রাজি না, সেখানে বিশ্ব ইজতেমা!!! আমার কাছে মনে হয় অসম্ভব।

এছাড়া কোন কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলে, মাদ্রাসা ছাত্রদের দায়-দায়িত্ব কে নিবে? আর ওলামা হযরত এবং মাদ্রাসা ছাত্র ছাড়া ইজতেমা হলে সেখানে সাদপন্থীরা এমন পরিবেশ তৈরী করবে, যেখান উলামাদের ভালোবাসেন এমন তাবলীগি সাথীরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। ডা. সাহাব উদ্দীন সাহেবের ঘটনা এর কিছুটা ইঙ্গিত দেয়। ওরা তার ওপরে হিংস্র হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়েছিল। মাওলানা যুবায়ের সাহেবের প্রতি ওদের প্রচন্ড ক্ষোভ। যে কোন এতায়াতির সাথে কথা বলে দেখুন, ওরা মাওলানা যুবায়ের সাহেবকে কী দৃষ্টিতে দেখে? এই অবস্থায় ওরা ইজতেমা ময়দানে মাওলানা যুবায়ের সাহেবকে কোন অবস্থাতেই ফয়সাল মেনে নিবে না।

প্রিয় পাঠকদের কাছে অনুরোধ করবো, ঘটনা ভিন্নদিকে মোড় নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি কী কী রূপ ধারণ করতে পারে এবং তার সমাধান কি, বিকল্প কী হতে পারে এটা আগে থেকেই ঠিক করুন।

30.01.2019

পূর্ববর্তি সংবাদপ্রহসনের নির্বাচনের পর জনগণ দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কিত : ইসলামী আন্দোলন
পরবর্তি সংবাদসিলেট বিভাগীয় ইলমী প্রতিযোগিতা আজ থেকে