ইসলাম টাইমস ডেস্ক: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত নেতাদের শপথ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অলি আহমেদ। তিনি বলেন, তিন থেকে চার বছর ধরে দিনের বেলা কোনো নির্বাচন হয় না।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানিয়েছেন সে জন্য আমি বলতে চাই, অবিলম্বে দেশের সৎ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নাও হতে পারে।
অলি আহমদের অভিযোগ, ‘৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৮০ ভাগ ব্যালট পেপারে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর নেই। ৬৫ ভাগ ব্যালট রাতের বেলা কাস্টিং হয়েছে। ৯৫ ভাগ লোককে ব্যালটে হাত দিতে দেওয়া হয়নি।’
তিন থেকে চার বছর ধরে বাংলাদেশে দিনের বেলা কোনো নির্বাচন হয় না, দাবি করে অলি আহমদ বলেন, ‘সবাই জানেন নির্বাচন হয় দিনের বেলা। কিন্তু গত তিন থেকে চার বছর দিনের বেলা কোনো নির্বাচন হয় না। দিনের বেলা হয় ড্রামা, নির্বাচন হয় আগের রাতে। এবারের নির্বাচনেও যে ভোটগুলো কাস্ট হয়েছে তার অন্তত ৮০ ভাগ ব্যালট পেপারে প্রিসাইডিং অফিসারের কোনো দস্তখত নাই।’
প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘২৯ ডিসেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে টাকার বন্যা হয়েছিল। কেউ বলে ৫ হাজার কোটি টাকা, কেউ বলে ১০ হাজার কোটি টাকা।’
এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেন, ‘ভোট ডাকাতি হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে।’
অলি আহমদের অভিযোগ, ‘বিরোধী দলে থেকেও সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তাঁরা ভালো ভালো বক্তব্য রাখেন, ভালো ভালো মিটিং করেন।’
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে তাই নির্বাচন নিয়ে মামলা করে কোনো ফল হবে না। মামলা করলেও তাদের পক্ষেই রায় দেবে আদালত। এ জন্য মামলা করবে না ২০ দল।’
‘বিরোধী দলের অনেকে সরকারের টাকায় নির্বাচন করেছেন। বিরোধী দলে থেকে তারা বড় বড় কথা বলে আবার সরকারের টাকায় নির্বাচন করে।’
সরকার জাতীয় ঐক্য চাইলে রাজনৈতিক বিবেচনায় যে সব বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম পরিস্থিতি বর্ণনা করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেন এলডিপি সভাপতি। বর্তমান সরকারের অধীনে তার দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাবে না বলেও জানান তিনি।
ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ২০ দলীয় জোটের শরিকদের যোগাযোগ কমে যাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নে অলি বলেন, ‘এটা বিএনপির ব্যাপার তারা কীভাবে সমন্বয় করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম, সহ-সভাপতি মোখফার উদ্দিন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, যুব বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বারী রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
















