নবীগণের প্রতি মির্জা কাদিয়ানির অবমাননা এবং সকল মুসলমানকে কাফের সাব্যস্ত করা

মাওলানা আবু সালমান ।।

মির্যা কাদিয়ানীর কাফের হওয়ার আরেক কারণ হলো সে অনেক নবীর শানে অশালীন মন্তব্য করেছে। তন্মধ্যে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হযরত ঈসা আ. বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইসলামী আকীদা হলো, কোন নবীর ব্যাপারে অবমাননাকর ইঙ্গিতও কুফুরী। তাদের শানে অপমানমূলক কোন লেখালেখি বা কথাবার্তা স্পষ্ট কুফুরী।

রাসূলে করীম সা.- এর শানে অবমাননা
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর শানে এত জঘন্যতম অবমাননা ও গোস্তাখী করেছে যা লিখতেও আমাদের হাত কেঁপে ওঠে। বুক কেঁপে ওঠে। এমন বক্তব্য শুনে কোন মুমিনের কলিজায় আঘাত লাগা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরা এখানে তার কয়েকটি অবমাননাকর বক্তব্য তুলে ধরছি। আশা করি পাঠকবৃন্দ এখান থেকেই মির্যার ধৃষ্টতার স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে পারবেন।

মির্যা কাদিয়ানী নিজের মনগড়া নামস্বর্বস্ব ‘নিদর্শনাবলী’কে রাসূল রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রকাশিত মু‘জিযার সঙ্গে তুলনা করে বলেছে,
“তাঁর (নবী করীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) জন্য তো শুধু চন্দ্রগ্রহণের নিদর্শন দেখানো হয়েছে। আমার জন্য চন্দ্র-সূর্য উভয়টির (গ্রহণের নিদর্শন দেখানো হয়েছে।) এর পরেও কি তুমি অস্বীকার করবে? -এ’জাযে আহমদী,পৃ: ৭১, রূহানী খাযায়েন,খণ্ড: ১৯, পৃ: ১৮৩

মির্যা কাদিয়ানী তার অস্বীকারকারী লোকদের উদ্দেশে বলতে চাইছে, তোমরা আমাকে কেন মানতে পারছো না? অথচ তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্বাস করো! আমার জন্য প্রকাশিত নিদর্শন তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শন অপেক্ষা আরও বৃহৎ ও উজ্জ্বল। তাঁর সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহ শুধুমাত্র চন্দ্রগ্রহণ করিয়েছেন। কিন্তু আমার সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহ তায়ালা চন্দ্র-সূর্য উভয়ের গ্রহণ ঘটিয়েছেন। এর পরেও তুমি আমাকে অস্বীকার করবে? (নাউযুবিল্লাহ!)

মির্যা কাদিয়ানী ‘আরবাঈন’ নামক গ্রন্থে লিখেছে,
“খুব মনোযোগসহ শুনে রাখো, এখন ‘মুহাম্মাদ’ নামের তাজাল্লি প্রকাশ করার সময় নয়। অর্থাৎ এখন জ্যোতির্ময়, তেজস্বী কোন খেদমত আর অবশিষ্ট নেই। তা যথেষ্ট পরিমাণে প্রকাশ পেয়েছে। সূর্যের কিরণ এখন আর সহনীয়নয়। এখন প্রয়োজন চাঁদের স্নিগ্ধ শীতল আলো। আর আহমদের রঙ্গে আমিই সেই চাঁদের আলো।” -আরবাঈন নং-৪, পৃ.১০৩, রূহানী খাযায়েন, খণ্ড: ১৭ পৃ: ৪৪৫-৪৪৬

লক্ষনীয় বিষয় হলো,মির্যা কাদিয়ানী কত সূক্ষভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওত, শিক্ষা ও আদর্শকে অপ্রয়োজনীয় ও অকেজো সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করে নিজের মিথ্যা নবুওয়তের প্রচলন ঘটানোর পাঁয়তারা করছে! সাথে সাথে মুসলমানদের মন-মানসে এ কথা প্রক্ষেপণ করার ঘৃন্য চেষ্টা করছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ও আদর্শ পালন করা অত্যন্ত কঠিন। এতদিন পালন করা গেলেও এখন আমার আগমনের পরে তা অকেজো হয়ে গেছে। এখন শুধু আমার তালীমই আমলযোগ্য হবে।

ইসলামকে বাতিল করে নিজের মতবাদ করার হীন উদ্দেশ্যে কাদিয়ানী সম্প্রদায় যে সকল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে তন্মধ্যে আল্লাহর রাসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুনরাবির্ভাব (নাউযুবিল্লাহ) অন্যতম। মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই দ্বিতীয় আগমন (নাউযুবিল্লাহ) দাবি করে কুরআন মজীদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত কথাগুলোকে নিজের উপর প্রয়োগ করে। এর একটি উদাহরণ উল্লেখ করা হলো।

মির্যা পুত্র বশীর আহমদ এম. এ. এই বিষয়টিকেই নিজ ভাষায় এভাবে ব্যক্ত করেছে,
“এখানে কোন ব্যক্তির যেন কোন ধরণের সন্দেহ না হয় যে, নাউযুবিল্লাহ আমরা নবী করীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘আহমদ’ মনে করি না। আমাদের ঈমান হলো তিনি আহমাদ ছিলেন। বরং আমরা তো মনে করি তিনি ব্যতিত আর কোন আহমাদ নেই। আর না কেউ আহমাদ হতে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তিনি কি তাঁর প্রথম আগমনে আহমদ ছিলেন? না! বরং তিনি তার প্রথমাগমনে ‘মোহাম্মাদ’ নামের জালাল বা তেজস্বীগুণে গুণান্বিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাই সূরা সাফ্ফ এ এমন এক রাসূলের আগমনভবিষ্যদ্ব্যাণী রয়েছে যিনি আহমদ হবেন। অতএব প্রমাণ হলো, এ ভবিষ্যদ্ব্যাণী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথমাগমন সম্পর্কে ছিল না। বরং তা ছিল তাঁর দ্বিতীয়াগমন তথা প্রতিশ্রুত মাসীহ (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর) সম্পর্কে। কেননা প্রতিশ্রুত মাসীহ শান্তগুণের প্রকাশস্থল বা দৃষ্টান্ত অর্থাৎ আহমদ। স্বয়ং প্রতিশ্রুত মাসীহ এ বিষয়টিকে নিজ পুস্তক ‘তোহফায়ে গোলড়বিয়া’ তে আলোচনা করেছেন।” -কালিমাতুল ফছল, পৃ: ৪৯

সুধী পাঠক, মির্যা বশীর আহমদের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় ফুটে উঠলো। তা হলো, সূরা সাফ্ফে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর যবানীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। যেখানে নবীজির নাম ‘আহমদ’ বলা হয়েছে। আর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামহাদীসের মাধ্যমে উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনিই সেই আহমদ।

পক্ষান্তরে মির্যা কাদিয়ানী ও তার সম্প্রদায়ের আকীদা হলো, উক্ত সূরাতে আলোচিত ‘আহমদ’ হলো মির্যা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী। (নাউযুবিল্লাহ।) তবে বিষয়টাকে মির্যাপুত্র সরাসরি অস্বীকার না করে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেছে, আমরা মানি যে, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমদ ছিলেন। তবে এ আহমদ তাঁর প্রথমাগমনে নয়। বরং তিনি দ্বিতীয়াগমনে আহমদ ছিলেন। পাঠক, এখানেও সেই পুরোনো কথা!‘অর্থাৎ মির্যা কাদিয়ানীকে মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআখ্যা দেয়া হচ্ছে।’ আমরা এ বিষয়ে আর দীর্ঘ আলোচনা করব না। আপনারাই এর অসারতা ও কুফুরী বুঝে নিন।

হযরত ঈসা আ. এর শানে অবমাননা
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ প্রেরিত একজন উঁচু মাপের নবী ছিলেন। মির্যা কাদিয়ানী খৃষ্টানদের বিরোধিতার নাম নিয়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের অবমাননা করেছে। আমরা এখানে তার কয়েকটি মাত্র বক্তব্য তুলে ধরছি।
মির্যা বলেছে-
“হায়! আজ কার কাছে আমি এই ফরিয়াদ নিয়ে যাবো যে, হযরত মাসীহ আ. এর তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী স্পষ্ট মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আজ দুনিয়াতে এমন কে আছে যে এ সমস্যার সমাধান করবে।” -এজাযে আহমদী, রূহানী খাযায়েন, খণ্ড: ১৯, পৃ: ১২১

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে একজন মদখোর সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলেছে-
“ইউরোপের লোকের মদ যত অনিষ্ট করিয়াছে, তাহার কারণ এই যে, হযরত ঈসা আ. মদ পান করিয়াছেন। হয়ত কোন রোগবশতঃ বা প্রাচীন অভ্যাস অনুযায়ী তিনি এরূপ করিয়াছেন। -কিশতিয়ে নূহ বাংলা অনুবাদ ৮৭

নিজেকে হযরত ঈসা আ. এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতে গিয়ে বলেছে-
“ঈসা ইবনে মারইয়ামের আলোচনা পরিত্যাগ করো। এরচে’ গোলাম আহমাদ-ই শ্রেষ্ঠ।” -তাতিম্মা হাকীকতুল ওহী, রূহানী খাযায়েন, খণ্ড: ২২, পৃ: ৪৮৩

সে আরো বলেছে, “খোদা তাআলা এই উম্মতের মধ্যে একজন মাসীহকে পাঠিয়েছেন যিতি পূর্বের মাসীহের তুলনায় সকল প্রকার মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ।” -দাফেউল বালা বাংলা, পৃ:১৫

স্বীয় পুস্তক ‘চশমায়ে মাসীহি’তে লিখেছে, “হযরত ঈসা আ. নিজে নৈতিক শিক্ষা-দীক্ষা মোতাবেক আমল করেননি। ইঞ্জির গাছ ফলহীন দেখে তার জন্য বদদোয়া করেছেন। অপরদিকে অন্যদেরকে দোয়া করার তালীম দেয়। অন্যদেরকে বলে,তোমরা কাউকে আহমক বলো না। কিন্তু নিজে গালাগালিতে এতটাই অগ্রসর হয়েছেন যে, ইহুদীদের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে হারামযাদা পর্যন্ত বলে ছেড়েছেন।”(নাউযুবিল্লাহ!) -চশমায়ে মাসীহি, রূহানী খাযায়েন, খণ্ড: ২০,পৃ: ৩৪৬

এক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যা-ই বলা হোক যে, ‘এখানে খৃষ্টানদের ঘায়েল করার জন্য তাদের কল্পিত যীশুকে টার্গেট করা হয়েছে।’এ ভড়ং কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। কারণ, এর অনেক বক্তব্যই মুসলমান ওলামায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। তার বক্তব্যের রং-ঢং থেকে সহজেই অনুমিত হয় যে, এ ধরণের কথা খৃষ্টানদের ঘায়েল করার জন্য বলা হয়নি। নতুবা কুরআনে বর্ণিত ‘ঈসা’ শব্দ কেন বলা হল? আবার তার নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ মূলক দোয়াবাক্যই বা কেন ব্যবহৃত হয়েছে? স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, যীশুকে গালি দেওয়ার বাহানায় হযরত ঈসা আ. কেই প্রকারান্তরে গালাগাল করা হয়েছে।

সকল মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেওয়া
মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবির প্রসঙ্গ আমরা তার নিজ উদ্ধৃতির আলোকে ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। বলাবাহুল্য, তার এ দাবির অনিবার্য ফল হলো, তাকে অস্বীকারকারী সকলকে সে কাফের আখ্যা দিবে। পরিষ্কার ভাষায় সে তা দিয়েছেও বৈ কি! সে পৃথিবীর সকল মুসলমানকে এক বাক্যে অমুসলিম আখ্যা দিয়েছে। কারণ, তারা মির্যা কাদিয়ানীর মিথ্যা দাবির উপর ‘ঈমান’ আনেনি।

মির্যা কাদিয়ানী বলেছে,
“আল্লাহ তায়ালা আমাকে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তির কাছে আমার দাওয়াত পৌঁছলো আর সে আমাকে গ্রহণ করলো না (আমার দাবি মানলো না) সে মুসলমান নয়।” -তাযকিরাহ, পৃ: ৫১৯, চতুর্থ সংস্করণ

যেসব নীতি ও আকীদা বিশ^াসের উপর কাদিয়ানী ধর্মমত প্রতিষ্ঠিত তন্মধ্যে এ আকীদা (অর্থাৎ,সকল মুসলমান কাফের হওয়ার আকীদা) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, মির্যা কাদিয়ানী তার এক মুরীদ ডা.আবদুল হাকীম খানকে এই অপরাধে দল থেকে বহিস্কার করে দিয়েছিল যে, সে ‘অ-আহমাদীদের’কে ( মুসলমানদেরকে) মুসলমান মনে করতো। (দেখুন, কালিমাতুল ফছল, পৃ: ৩৫)

আরও পড়ুন : কাদিয়ানি সম্প্রদায় কেন মুসলমান নয়: আল্লামা মনযুর নোমানী রহ.

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় খলীফা ও মির্যা কাদিয়ানীর বড় ছেলে মির্যা বশীরুদ্দীন মাহমুদ তো আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেছে,
“যে সকল মুসলমান হযরত মাসীহে মাওউদের হাতে বায়আত গ্রহন করেনি, এমনকি তারা হযরত মাসীহে মাওউদের নাম না শোনার কারণেই তা হোক, তবুও তারা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডি বহির্ভূত।”  -আয়েনায়ে সাদাকাত,পৃ: ৩৫, আনওয়ারুল উলূম, খণ্ড: ৬, পৃ: ১১০

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের অনেক ব্যক্তি কখনো কখনো অভিযোগের সুরে বলে থাকে যে, আমরা তো তোমাদের কাফের মনে করি না। বরং মুসলমান মনে করি। তোমরা কেন আমাদেরকে কাফের মনে করো? তাদের এরূপ বক্তব্য নিতান্তই প্রতারণামূলক। জনসাধারণের কাছে ওলামায়ে কেরামকে ঘৃনিত করার লক্ষ্যেই তারা এ ছল-চাতুরী অবলম্বন করে। নতুবা আদৌ তারা আমাদেরকে মুসলমান মনে করে না। আর যদি কেউ অজ্ঞতাবশত অ-আহমাদী (মুসলমানদেরকে) মুসলমান মনে করেই থাকে তাহলে সে তাদের নীতি অনুসারেই ‘আহমদী’ বা কাদিয়ানী নয়। যেমনটি আমরা ডা. আবদুল হাকীম খানের বহিষ্কারের বিষয়ে ইতিপূর্বে জানতে পেরেছি।

তাছাড়া কাদিয়ানী সম্প্রদায় কোন মুসলমান ইমামের পিছনেও নামায পড়ে না। কারণ, তাদের দৃষ্টিতে সে ইমাম অমুসলিম। এ বিষয়ে মির্যা কাদিয়ানী তার অনুসারীদেরকে নসীহত করে বলেছে, তারা যেন কোন মুসলমানের পিছনে নামায না পড়ে।

লক্ষ করুন, “আল্লাহ তায়ালা আমাকে জানিয়েছেন যে, এমন লোকের পিছনে তোমাদের নামায পড়া হারাম এবং অকাট্টভাবে হারাম, যারা আমাকে কাফের ঘোষণা করেছে,বা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে অথবা আমার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছে। অতএব তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্যেই কোন একজন হবে।” -আরবাঈন, রূহানী খাযায়েন, খণ্ড: ১৭, পৃ: ৪১৭, তাযকিরাহ, পৃ: ৩১৮

আরও পড়ুন : কাদিয়ানি ফেতনা নির্মূলে আকাবিরে দেওবন্দের প্রচেষ্টা

প্রিয় পাঠক, লক্ষণীয় বিষয় হলো, হাদীস শরীফে এসেছে, কেয়ামতের পূর্বে যখন হযরত ঈসা মাসীহ আ. আগমন করবেন তখন একপর্যায়ে সকল মানুষ মুসলমান হয়ে যাবে। দুনিয়াতে কোন কাফের থাকবে না। যদ্দরূণ কোন অমুসলিমের কাছ থেকে ‘জিযিয়া’ বা কর আদায় করার সুযোগও ঘটবে না। জিহাদেরও সমাপ্তি ঘটবে। কারণ যখন কোন কাফেরই থাকবে না তখন জিহাদ হবে কার সঙ্গে?

এদিকে মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে হাদীসে বর্ণিত মাসীহ হওয়ার দাবি করেছে এবং তার গুটিকয়েক অনুসারী ছাড়া বাকি পৃথিবীর সকল মুসলমানকে (প্রায় আড়াইশ’ কোটি) কাফের ঘোষণা করেছে। যদি কাদিয়ানী সম্প্রদায় অন্তত এই একটি বিষয় নিয়েও নিরপেক্ষমনে চিন্তা-ভাবনা করতো তবুও তারা বুঝতে সক্ষম হতো যে তারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। বাংলায় প্রবাদ আছে, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।”আমরা দোআ করি,আল্লাহ তাআলা তাদের হেদায়েত নসীব করুন। (আমীন)

আরও পড়ুন : কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আসল রূপ

পূর্ববর্তি সংবাদউজিরপুরে পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদইজতেমা মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কোনো সুযোগ নেই : ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হান্নান