আবরার আবদুল্লাহ ।।
টঙ্গীর ইজতেমা ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হয়ে ওঠে যেসব বিদেশি মেহমানদের জন্য তাদের নিয়ে নানা রকম কৌতুহল রয়েছে অনেকের। তাদের নিয়ে নানান প্রশ্নও করতে শোনা যায় মুসল্লিদের। যেমন, কতোজন বিদেশি এলেন, কোন দেশ থেকে বেশি এলেন, তারা ইজতেমার পর কী করেন ইত্যাদি।
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আজ কথা বলেছিলাম, তাবলিগ জামাতের কয়েকজন দায়িত্বশীল ও পুরাতন সাথীর সঙ্গে। তারা জানান, ইজতেমা সময় আগত মুসল্লিদের তিনভাগে ভাগ করা হয়। তাহলো, ক. যারা শুধু ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশে এসেছেন, খ. যারা নতুন কাজে যুক্ত হয়েছেন, গ. যারা আগ থেকে কাজে যুক্ত ছিলেন।
যারা শুধু ইজতেমায় অংশ নিতে আসেন তারা সাধারণত ইজতেমার পরপর নিজ নিজ দেশে ফিরে যান। আর যে তাবলিগের কাজে সময় দিতে চান অথচ নতুন -তাদেরকে সাধারণত জামাতবদ্ধ করে বাংলাদেশেই সময় লাগাতে বলা হয়। কিন্তু যাদের দাওয়াতি কাজের অভিজ্ঞতা থাকে তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে সময় লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
যারা বাংলাদেশে সময় লাগানোর জন্য নির্বাচিত হন, তারা ইজতেমার মাঠ থেকে বা দুয়েকদিনের বিশ্রামের পর দ্বীনের কাজে বের হয়ে যান। যারা ভিন্ন কোনো দেশে সময় লাগানোর জন্য মনোনীত হন তাদের ভিসা-ইনভাইটেশনসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে বের হন। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কখনও কখনও দুই-তিন মাস সময়ও লেগে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করে দ্বীনি কাজের শিক্ষা নিতে থাকেন। অবশ্য আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হলে মুরব্বিরা তাদেরকেও বিভিন্ন জামাতের সাথেও জুড়ে দেন।
ভারত-পাকিস্তান থেকে আগত মুরব্বিরা ইজতেমার পর বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থান করেন না। ইজতেমার পরপর তারা নিজ দেশে ফিরে যান। এবারও ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শেষে শনিবার ভারতের মুরব্বিরা ফিরে গেছেন এবং আজ রোববার সকালে পাকিস্তানের মুরব্বিরা পাকিস্তানে উদ্দেশে রওনা করেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের বিরোধ, সময়ের সংক্ষিপ্ততা ও ভিসা জটিলতারও পর এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচশো মুসল্লি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন। তারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, ভারত-পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইতালি, লিবিয়িা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসেন। এবার বিদেশি মেহমানদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মালয়েশিয়া থেকে ৬০ জন এবং সর্বনিম্ন জাপান থেকে ১ জন মেহমান এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন বিদেশি মেহমানদের দায়িত্বশীল মোঃ মোখতার।
ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী বিদেশি মেহমানদের বড় অংশই দেশে ফিরে গেছেন এবং বাকিরা কাকরাইলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
















