মুহাম্মাদ শোয়াইব ।।
২০১১ সালের পর আবারও মিশর ও ইউরোপের মধ্যস্ততায় ইসরাইল ও হামাসের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি করতে চাচ্ছে ইসরাইল। এ লক্ষ্যে কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছে ইসরাইল। এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখন্ড শাসনকারী হামাসও ইসরাইলের ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত। তবে তা হচ্ছে পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে। ইতমধ্যেই ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত হামাসের দেয়া শর্তগুলো পূরণ করার জন্য প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শিন বেত গত কয়েক দিনে ওইসব বন্দিদের সঙ্গে বার বার বৈঠক করেছে, যাদেরকে কযেক বছর পূর্বে শালিত চুক্তির আওতায় ছেড়ে দেয়ার পর আবারও গ্রেফতার করেছে ইসরাইল। তাদের অধিকাংশই পশ্চিম তীর ও আল কুদস অঞ্চলের বাসিন্দা।
১৮ অক্টোবর ২০১১ সালে হামাস তাদের হাতে বন্দি ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে মুক্তি দেয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দি এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মুক্তির বিনিময়ে শালিতকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে হামাসের সেনাসূত্র নিশ্চিত করে।
মুক্তির পাঁচ বছর আগে ২০০৬ সালে হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলি সৈন্য গিলাদ শালিতের মুক্তির বিনিময়ে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতা করেছিল মিশর ।
মুক্তিপাওয়া বন্দিদের বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠানে হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বন্দি বিনিময়কে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেছিলেন।
হামাসের সদস্যরা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে গাজা থেকে ইসরায়েলের ভিতর প্রবেশ করে শালিত ও তার সহসেনাদের হতবাক করে দেয়। তারা তাৎক্ষণিক হামলা চালিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করে শালিতকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
তারপর থেকে অজ্ঞাত স্থানে বন্দি শালিতের কোন খোঁজ পায়নি ইসরা্ইল। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তার একটি ভিডিও প্রকাশ করে হামাস। পরে তাকে মুক্তি দেয়ার শর্তে হামাস ১০২৭ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্ত করায়। যাদের অনেকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, ইসরাইলে প্রায় ৬ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন।
সেরকম আরেকটি চুক্তি হতে যাচ্ছে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে। জানা যায়, ইসরাইল হামাসের দেয়া শর্ত অনুযায়ী ওইসব বন্দিদেরকে মুক্তি দেয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যাদেরকে শালিত চুক্তির আওতায় মুক্তি দেয়ার পর আবার গ্রেফতার করা হয়।
পুনঃগ্রেফতারকৃত ৬০ জন বন্দী থেকে ৩০ জনের সঙ্গেই জেল খানার ভেতরে বার বার বৈঠক করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা- শিন বেত। এসব বন্দীদের সবাইকে খুব তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেয়া হতে পারে। শিন বেত বার বার যে বৈঠক করছে তাতে বুঝা যায়, বন্দী মুক্তির বিষয়টি বেশ অগ্রসর হয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্র বলছে, এবার ২০১১ সালের দ্বিগুণ বন্দীকে মুক্ত করাতে পারবে তারা।
২০১১ সালের ১১ অক্টোবর মিশরের মধ্যস্ততায় হামাস বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ১০২৭ জনকে মুক্ত করাতে পেরেছিল। বিনিময়ে হামাস শুধু একজন ইসরাইলি সৈন্যকে মুক্তি দেয়। সেই সৈন্যের নাম গিলাদ শালিত।
কিন্তু ইসরাইল ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মুক্তি দেয়া বন্দিদের ৬০ জনকে আবার গ্রেফতার করে। আর সেই প্রেক্ষাপটে হামাস বন্দী বিনিময়ের যে কোনো আলোচনার পূর্ব শর্ত হিসেবে তাদেরকে মুক্তি দেয়ার শর্ত করে।
হামাসের এক নেতা বলেন, এবার হামাস বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় পুনঃগ্রেফতার না করার শর্ত করতে চায় এবং যাদেরকে গ্রেফতার করেছে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার শর্ত করার পাশাপাশি আরও বিপুল সংখ্যক বন্দীকে মুক্ত করাতে চায়।
হামাসের এই নেতা বলেন, শালিত চুক্তির আওতায় যাদেরকে মুক্তি দেয়ার পর আবার গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সঙ্গে জেল খানায় গোপন আলোচনায় বুঝা যাচ্ছে, ইসরারাইল বন্দী মুক্তির বিষয়ে অনেকটা চুড়ান্ত পর্যাযে এসেছে। তবে এবারের চুক্তিতে হামাস ২০১৪ সালে যেসব ইসরাইলি সেনাদের গ্রেফতার করেছে তাদের বিনিময়ে আগের তুলনায় দ্বিগুণ মুক্তির দাবি করবে।
উল্লেখ্য, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমস্ত বন্দিদেরকে মুক্তি করিয়ে নিতে চায়। আর এই জন্য খোদ ইসরাইলেরই আগ্রহ বেশি এবার।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার নেতা ইসমাইল হানিয়া ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি বিবৃতিতে বলেছেন, হামাস ইসরাইলের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি করতে আগ্রহী।
হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদ্নি আল-কাসসাম ব্রিগেড ২০১৬ সালের এপ্রিলে বলেছিল তাদের কাছে ৪ জন ইসরাইরি সৈন্য রয়েছে। তবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
অন্যদিকে শিন বেতের গোপন বৈঠক সম্পর্কে ইসরাইলি বিশ্লেষক মুমনি মেকদাদ বলেন, সময় বাড়ুক বা কমুক ইসরাইলের সামনে হামাসের দেয়া শর্তের কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া গতি নেই।
সূত্র: আল খলিজ অনলাইন
















