ইসলাম টাইমস ডেস্ক: অপহরণের শিকার ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভকে দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। আর ছেলেকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান।
আজ সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভের মা অভিযোগ করে বলেন, বেঙ্গল বিউটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করে তার ছেলে সৌরভ। এই চলচ্চিত্রের পরিচালকও ছিল সে। সেই সময় একটি মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয় ও তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। সৌরভ তখন চট্টগ্রামে থাকতো। পরবর্তীতে মেয়েটি তাকে বিয়ে করার চাপ দেয়। বিষয়টি মেয়ের বাবা জানতে পেরে তাকে অন্যখানে বিয়ে দেয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যে ২০১৮ এর এপ্রিল বা মে মাসে সে বিয়ে ভেঙে যায়। এ বিয়ে ভাঙার জন্য আবারও সৌরভকে দায়ী করে মেয়ের বাবা। এজন্য তিনি সৌরভসহ আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, এরপর ১৬ মে আমাদের পারিবারিক বন্ধুর বাসা থেকে সৌরভকে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার সময় সিসিটিভির ফুটেজসহ হার্ডডিস্ক নিয়ে যায় তারা। তবে একইদিন গভীর রাতে আবার ফেরত দিয়ে যায়। সৌরভের কাছে জানতে চাইলে সে বলে একটি অজ্ঞাত স্থানে চোখ বাঁধা অবস্থায় হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দীর্ঘ ১৫-১৬ ঘণ্টা বন্দি করে রাখার পর সম্ভবত দুপুর দুইটার দিকে ৮-১০ জন লোক তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তুর একাংশ ছিল সেই মেয়ে সংক্রান্ত। সৌরভ তাকে জানিয়েছে, সেসময় তারাই উল্লেখ করে যে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ আনা হলেও অনুসন্ধানে এর সত্যতা পায়নি তারা।
তিনি জানান, এরপর সৌরভকে বাসায় ফেরত দিয়ে একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়ার স্বীকারোক্তি নিয়ে যায় র্যাব। এরপর ৮ জুন দুপুর বেলা সৌরভের কাছে র্যাবের একটি ফোন আসে এবং সৌরভকে বলে চাকরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট ও জীবনবৃত্তান্ত রেডি রাখতে, তারা আবার সৌরভকে সময়মতো ফোন দিয়ে কাগজ সংগ্রহ করে নেবে। ৯ জুন দুপুর তিনটার সময় র্যাব সদস্যরা সৌরভের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজ ও পাসপোর্টসহ চট্টগ্রাম মিমি সুপার মার্কেটে সন্ধ্যা ৭ টায় উপস্থিত হতে বলেন। চাকরির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে গিয়ে আমার ছেলে আমার কাছে আর ফিরে আসেনি আর তার মোবাইল বন্ধ। আমরা মনে করছি, আমাদের ছেলে রাতের মধ্যে ফিরে আসবে কিন্তু বাসায় না আসলে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ছেলের খোঁজ করি এবং না পেয়ে পরের দিন সকালবেলা থানায় একটি জিডি করি।
এ ঘটনার সমাধানে কান্না ভেজা কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এসময় সোহেল তাজ বলেন, আমাদের আজকের সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় হলো সৌরভকে জীবিত অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়া। আমি এই বিষয়টি নিয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপি সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আশা করবো আইন বহির্ভূত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যদি কেউ করে থাকে এতে আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
















