ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মালয়েশিয়ার ৭ টি প্রদেশে জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েককে । মেলাকা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিলি জাহারি বলেছেন, সেখানে কোনরকম সভায় বক্তব্য দিতে পারবেন না জাকির নায়েক। এর আগে জাকির নায়েকের ‘মন্তব্য’র জন্য ১৬-১৮ আগস্টে পারলিসের একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বাধা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এরপর বাধা আসে কেদাহ প্রদেশে। এখন মেলাকার মুখ্যমন্ত্রীও দিলেন একই ঘোষণা।
মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা বলা হয়, এখন পর্যন্ত দেশটির সাতটি রাজ্যে নিষিদ্ধ হয়েছে জাকির নায়েকের ভাষণ। এগুলো হলো মেলাকা, জোহর, সেলানগর, পেনাং, কেদাহ, পেরলিন এবং সারাওয়াক।
অন্যদিকে কেদাহ রাজ্যের ধর্ম বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইসমাইল সালেহ জানান, জাকির নায়েককে এই রাজ্যে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে তিনি কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারবেন না। এ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব কিছুর আগে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ভারতের আদালতে ‘অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো’র অভিযোগ উঠানো হয়েছে ডা. জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে সম্প্রতি জাকির নায়েকের বক্তব্যের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন মালয়েশিয়ার সংখ্যালঘু কয়েকজন মন্ত্রী। এ ঘটনায় তদন্ত করছে মালয় পুলিশে।
রবিবার মেলাকা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিলি বলেছিলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন যেকোনও কিছু এড়াতে চান তারা। তিনি বলেন, আমরা সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। তাই জাকির নায়েককে কোনও বক্তব্যের অনুমতি দেওয়া হয়নি এ রাজ্যে।
পেনাংয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী দাতুক আহমাদ জাকিউদ্দিন আব্দুল রাহমান বলেন, তারা জন সমাবেশে বক্তৃতার জন্য জাকির নায়েককে স্বাগত জানাবেন না। আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আরও ছয় মাস আগে। তিনি বলেন, ‘জাকির যখন আমাদের সঙ্গে দেখা করেন তখন বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিলো। তার মধ্যে ছিলো পেনাংয়ে জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়া। কিন্তু আমরা তাকে বক্তব্য দিতে মানা করে দিই।
সেলানগর ইসলামিক পরিষদের চেয়ারম্যান দাতুক মোহাম্মদ খুশরিস মুনাউই বলেন, জাকির নায়েককে নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রেক্ষিতেই তার বক্তব্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মনে হয় সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়াই উত্তম।
















