আম্মারা কি এমনই হয়?

এহসান সিরাজ ।।

পাশ দিয়ে আসার সময় ভাবলাম, আর বসার জায়গা পেলিনা! এখানে বসে কেন এমন কাজ করবি? ফকিরের জাত উদ্ধার করতে লাগলাম মনে মনে!

পায়ে একটু গরম অনুভূত হওয়ায় ফিরে তাকালাম পেছনে। কলিজাটা ছ্যাৎ করে উঠলো! প্রচন্ড একটা ধাক্কা খেলাম। এ জায়গায় আমার আম্মাও থাকতে পারতেন, আমি তার কোলে!

দেখলাম, পরম মমতাময়ী এক ছিন্নমূল মা তার সন্তানকে বুকের দুধ দিচ্ছেন। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে একটি হোটেলের ভেন্টিলেটরের নিচে বসেছেন তিনি। পাইভ (কমলা চিহ্ন) থেকে হোটেলের রান্নাঘরের গরম হাওয়া নিচে নামছে। পাশেই একটি মাটির বস্তায় বসে গরমের উঞ্চতা পেতে মা তার সন্তানকে পরম মমতায় আগলে ধরে আছেন।

ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে বাসায় আমরা কতো কিছু ব্যবহার করি। এ মা হয়তো হোটেল বন্ধ হলে রাস্তার ধারেই কোথাও আশ্রয় নেবেন। তখন কী হবে তার সন্তানের? ভাবতেই গা শিউরে উঠলো!

সঙ্গে ছিলো মনযূর। হেঁটে অনেক দূর চলে এসেও আবার ফিরে গেলাম তার কাছে। লজ্জায় কথা বলতে পারলাম না। সাহস হলো না তার কাছে ক্ষমা চাই। ফিরে এলাম।
আম্মার কথা মনে পড়লো। আহা! কতো আদরে আমাদের বড় করেছেন।
আচ্ছ! আম্মারা কি এমনই হয়?

লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া

পূর্ববর্তি সংবাদনেজামে ইসলাম পার্টির ঢাকা মহানগরের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত
পরবর্তি সংবাদঝাড়খন্ডের ধাক্কায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে বিজেপির, উড়ুক্কু অমিত শাহ