ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি পাস হওয়া মুসলিম বিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে গত সোমবার শুরু হওয়া সংঘাত এখনো চলছে। সিএএ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে খুন করেছে সিএএ সমর্থক উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এছাড়া ৭০ জন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৫০ জন।
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, দিল্লিতে টার্গেট করে মুসলিমদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। অনেক মুসলিমের বাড়িঘর, দোকানপাট টার্গেট করা হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে এত ভয়াবহ সহিংসতা ঘটেনি।
এদিকে ভজনপুরা, গৌতমপুরী এবং মৌজপুরের আশপাশের অঞ্চলের বাসিন্দারা বাড়ির বাইরের দেওয়াল, প্রধান দরজা এমনকি বারান্দাতেও লাগিয়ে রাখছেন গেরুয়া পতাকা। এভাবেই তারা নিজেদের হিন্দু বলে প্রমাণ করছেন যেন হামলার শিকার হতে না হয়।
বিবিসির স্থানীয় একজন সাংবাদিক দেখতে পেয়েছেন একটি মসজিদ আংশিক পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে ইতস্তত ছড়িয়ে আছে ধর্মীয় গ্রন্থের কিছু পৃষ্ঠা। একই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা। বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে তাতে ওই শহরটির একটি হিম শীতল রূপ ধরা পড়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দলবদ্ধভাবে লাঠি, লোহার রড এবং ইটপাথর হাতে লোকজনকে দেখা গেছে রাস্তায়।
ঘটনাস্থলে বিবিসির সাংবাদিক বলেছেন, এসব এলাকার প্রধান সড়কগুলো বিশৃংখল অবস্থায়। রাস্তায় বিক্ষিপ্ত পড়ে আছে ইটপাথর, ভাঙা কাচ, ভাঙা ও পুড়ে যাওয়া গাড়ি এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অনেক ভবনের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছিল ধোয়া। এসব বলেছেন বিবিসি হিন্দির সাংবাদিক ফয়সাল মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, আংশিক পুড়ে যাওয়া একটি মসজিদ দেখতে পেয়েছেন তিনি। এর মেঝেতে পড়ে ছিল কুরআন শরীফের কিছু পৃষ্ঠা।
এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তার মধ্যে রয়েছেন হিন্দু ও মুসলিমরা। গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের কর্মকর্তাদের মতে, সেখানে আহত প্রায় ১৮৯ জনকে ভর্তি করানো হয়েছে। বিবিসির সাংবাদিকরা হাসপাতালে দেখতে পেয়েছেন বিভিন্ন রকম আহত মানুষকে। তাদের কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ। চিকিৎসার জন্য চিৎকার করছেন তারা। তারা বলছেন, ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগি গিয়েছেন সেখানে। আহতদের অনেকে এতটাই ভীত শঙ্কিত যে তারা বাসায় যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
















