ওবাইদুল্লাহ ওবাইদ।।
চীনের উহান শহর থেকে বিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্বকে স্থবির করে রেখেছে। এমতাবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, শিল্প-কর্মসহ স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ বিনাশ যতটা না আতঙ্কের তারচে বেশি আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকা।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের একের পর এক সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে। যথাযথভাবে কোয়ারেন্টাই তথা ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, খাবার ও পানীয়। আপৎকালীন অগ্রিম বেতন প্রদান এবং বাসা ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সরকারি বেসরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে মানবিক নানা কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। সাধ্যমত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে।
বাসা ভাড়া এদেশের নাগরিকদের ব্যয় খাতের অন্যতম একটি অংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে ভাড়া ভবনে। এছাড়াও বাসস্থান হিসেবে ভাড়া বাসা অনেকেরই জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে স্থবির আয় রোজগারে প্রতিদিনের অন্ন যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ সেখানে প্রতি মাসে বাসা ভাড়া গণাটা অনেক কঠিন ব্যাপার। এটি বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ঢাকা চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া মওকুফ করে মানবিকতার হাত প্রসারিত করেছেন কেউ কেউ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনও বাসা ভাড়ার মওকুফ হয়নি।
এ মুহূর্তে যা অতি জরুরি একটি বিষয়। বাসা ভাড়া মওকুফের জন্য বাড়িওয়ালাদের প্রতি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে আহ্বান করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত অনলাইন টেলিভিশন সিপ্লাস টিভির এক সাক্ষাৎকারে করোনা দুর্যোগের কথা বিবেচনা করে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সামর্থ্যবান বাড়িওয়ালাদের আগামী মাসে (এপ্রিল)র বাড়ি ভাড়া মওকুফের অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তবে যাদের শুধুই বাড়ী ভাড়া ছাড়া অন্যকোন উপার্জন নেই তাদের ক্ষেত্রে এই অনুরোধ প্রযোজ্য নয় বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় সিপ্লাসটিভির টকশোতে বাড়ি ভাড়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন উত্থাপন করলে, বাড়িওয়ালাদের প্রতি মেয়র এই অনুরোধ জানান। বাসা ভাড়া মওকুফ করেননি এমন কয়েকজন বাড়িওয়ালার সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘বাড়িওয়ালাদের অনেকে হাউজলোন নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে। প্রতি মাসে বাড়তি সুদসহ লোন পরিশোধ করতে হয়। গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল তো রয়েছেই। সরকার যদি বাড়িওয়ালাদের ঋণের সুদ, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, যাবতীয় টেক্স মুওকুফ করেন তাহলে ভাড়াটিয়াদের বাসা ভাড়া মওকুফ এতটা কঠিন কিছু নয়।’
ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বাড়িওয়ালাদের ঋণের সুদ, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, যাবতীয় টেক্স মুওকুফ করার আহ্বান করেন। সোস্যাল মিডিয়াও বিষয়টি নিয়ে বেশ জোরালো আওয়াজ উঠেছে। বাসা ভাড়া মওকুফের আহ্বান আসছে আরো অনেক দিক থেকেই। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকেই প্রথমে ভূমিকা রাখতে হবে। বাড়িওয়ালারাও এদেশের সাধারণ নাগরিক। পিছুটান রয়েছে তাদেরও। সরকার তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ালে দেশব্যাপী বাসা ভাড়া মওকুফ সময়ের ব্যাপার।
















