করোনাকে ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ত্রাণের চাল চুরি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক:  করোনাকে ছাপিয়ে আলোচনায় এখন ‘চাল চোর’৷ এ ধরনের ঘটনা তদন্তে খাদ্য মন্ত্রণালয় সোমবার একটি কমিটি করেছে৷ খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, কারা চাল বিক্রি করল এবং কারা দায়ী সেটা বের করবে ওই কমিটি৷

প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ত্রাণ চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন৷ চাল চুরি রোধে মাঠে নেমেছে মোবাইল কোর্ট, পুলিশ এবং র‌্যাব৷  আরেক দিকে সরকারি ত্রাণের ট্রাক আটক করে গরিব মানুষের ত্রাণ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে৷

তিন দিন আগে ব্র্যাকের প্রকাশিত জরিপে বলা হয় করোনার কারণে দেশের ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে এখন কোনো খাবার নেই৷ ২৯ শতাংশের ঘরে আছে এক থেকে তিন দিনের খাবার৷ চরম দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় ৬০ ভাগ বেড়ে গেছে৷

ব্র্যাকের জরিপ বলছে সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা তাঁদের কাজ কমে গেছে৷ আট শতাংশ মানুষের কাজ থাকলেও এখনও বেতন পাননি৷

এই পরিস্থিতিতে দেশে তিন ধরনের খাদ্য সহায়তা চলছে৷ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ভিজিএফ-ভিজিডি, ওএমএস, ১০ টাকায় চাল এবং হতদরিদ্র মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা, এই তিনটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম আর চুরির অভিযোগে এখন সয়লাব৷

কত চাল চুরি হয়েছে
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন গরীব মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দের চুরি হওয়া দুই হাজার ১৭৪ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে৷ প্রতি বস্তায় সাধারণত ৫০ কেজি করে চাল থাকে৷ তবে চুরি হওয়া আরো ৫৫০ বস্তা চালের কোনো খোঁজ এখনো করতে পারেনি তারা৷ সবচেয়ে বেশি ৬৯৫ বস্তা চুরির চাল উদ্ধার হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে৷ পুলিশের হিসাবে গত দুই সপ্তাহে এইসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও  চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে সংবাদমাধ্যমে চাল চুরির যত ঘটনা প্রকাশ হয়েছে তার এক চতুর্থাংশের বেশির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ আবার চাল চুরির ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করায় দেশের কয়েকটি এলাকায় প্রভাবশালীদের হাতে মার খেয়েছেন সাংবাদিকেরা৷ তবে কয়েকটি ঘটনায় দলীয়ভাবে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ কয়েকজন চেয়ারম্যান, মেম্বারকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে৷

কোন ধরনের প্রকল্পের চাল চুরি
৬৪ জেলায় বিশেষ মানবিক সহয়াতা হিসেবে সরকার ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নয় হাজার ৪০০ টন চাল, চার কোটি ৭০ লাখ টাকা ও শিশুখাদ্য কেনা বাবদ এক কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে৷

জানা গেছে, এইসব প্রকল্পের চাল ও ত্রাণ নানাভাবে চুরি করা হয়৷ ওজনে কম দেয়া, তালিকা অনুযায়ী না দিয়ে বিক্রি করে দেয়া, গায়েবী লোকজনের নামে বরাদ্দ দেয়া, স্বজন প্রীতির মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়ে সেখান থেকে একাংশ নিয়ে নেয়া হয়৷ তবে করোনায় যে মানবিক সহায়তা দেয়া হয় সেখানে চুরির সুযোগ সবেচেয়ে বেশি৷ কারণ এটা আকস্মিক এবং সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরি করে দেয়নি৷

তদন্ত কমিটি ও খাদ্যমন্ত্রী

ত্রাণের এই বিপুল পরিমান চাল চুরির ব্যাপারে সরকার এখনো কোনো কিনারা করতে পারেনি৷ তাই চাল চুরির ঘটনা তদন্তে  খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মজিবর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির অন্য দুইজন সদস্য হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. তাহমিদুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর রহমান হোছাইনী৷

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, ‘‘কী পরিমান চাল বেহাত হয়েছে তা আমরা এখনো নিশ্চিত নই৷ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাল ধরা পড়েছে৷ পুলিশ মামলা করেছে৷ এখন তদন্ত করে বের করা হবে আরো কারা জড়িত৷ সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ আমাদের মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত কিনা তাও দেখা হচ্ছে৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘যে চাল ধরা পড়েছে তা কোন প্রকল্পের চাল তাও জানতে হবে৷ যদি টিআর ও কাবিখার চাল হয় তাহলে তাতো বিক্রি করেই উন্নয়নমূলক কাজ হয়৷ এছাড়া অনেকে আছেন যারা খাদ্য কর্মসূচির চাল পেলেও মোটা চাল বলে খান না, বিক্রি করে দেন৷’’

তিনি বলেন, ‘‘খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অনেক তালিকাই আপডেট নাই৷ আমরা আগেও প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি, আবার এইসব ঘটনা শুরুর পরও তালিকা আপডেট করতে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি তারা আপডেট করেননি৷ এটা তারও ফল হতে পারে৷ অনেক ফলস কার্ড থাকতে পারে৷’’

ডিডাব্লিউ

পূর্ববর্তি সংবাদভিয়েতনামে গরিবের জন্য চালের ‘এটিএম’ চালু
পরবর্তি সংবাদভারতে ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হল লকডাউন