কওমি শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতির পর অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন দেশের কওমি মাদরাসার ভবিষ্যত পরিণতি নিয়ে। এ ক্ষেত্রে তারা আলিয়া মাদরাসাকে উদহারণ হিসেবে পেশ করছেন। কওমি মাদরাসাকে এ শঙ্কা থেকে মুক্ত রাখা এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার মান এগিয়ে নেয়া বিষয়ে ইসলাম টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব ও আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া-এর অন্যতম সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন আতাউর রহমান খসরু।
ইসলাম টাইমস : কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি আইন জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : আলহামদুলিল্লাহ! কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি আইন সংসদে পাশ হওয়ায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। এ আইন কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো। যারা আমাদের এ দাবিতে সাড়া দিয়েছেন আমরা তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবসহ স্বীকৃতি আইন পাশ হওয়ার ক্ষেত্রে যারা যারা আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন সকলকে মোবারকবাদ।
বিশেষত আমাদের যেসব আকাবির স্বীকৃতির জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
ইসলাম টাইমস : স্বীকৃতি হলো। এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : এখন আমাদের পরিকল্পনা শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীরা যেন যোগ্য হয়ে ওঠে, যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে সেটাই আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ! যেন কেউ বলতে না পারে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
ইসলাম টাইমস : শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে আপনারা কী কী উদ্যোগের কথা ভাবছেন?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : আমাদের শিক্ষা কারিকুলামকে ঢেলে সাজানো হবে। এখন কওমি মাদরাসায় একাধিক কারিকুলাম চলছে। কোথাও ১০ বছর, কোথাও ১২ বছর আবার কোথাও ৮-৯ বছর। আমরা এটাকে ১৬ বছরের উন্নীত করবো।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও তার মান উন্নত করার কথাও আমরা ভাবছি।
ইসলাম টাইমস : তখন কি কেন্দ্রভিত্তিক পরীক্ষাগুলোতেও পরিবর্তন আসবে?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : হ্যাঁ, সে সম্ভাবনা আছে। ক্লাস বাড়লে পরিবর্তন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাপক পরিসরে আলোচনাও হয়নি। যা বলছি সবই সম্ভাব্য।
ইসলাম টাইমস : পরিবর্তন কি শুধু বেফাকেই হবে নাকি সব বোর্ডেই হবে?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : হলে তো সব বোর্ডেরই হবে। কারণ সবাই একই সনদ গ্রহণ করবে। তাছাড়া সবাই না করলে সরকারকে কী উত্তর দেবো?
ইসলাম টাইমস : যারা স্বীকৃতির বিরোধিতা করছে তাদের দাবি- কওমি মাদরাসার সিলেবাসে যুগোপযোগী শিক্ষা তথা সাধারণ শিক্ষার ঘাটতি আছে। আপনি কী মনে করেন?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : আমরা প্রথম বলবো, সমাজে চলার জন্য যতোটুকু শিক্ষার প্রয়োজন তা আমাদের সিলেবাসে আছে। আমাদের এখানে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি সমমানের সাধারণ বিষয়গুলো পড়ানো হয়। এটাকে এসএসসি পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে।
দ্বিতীয় কথা হলো, আমাদের উদ্দেশ্য ভালো আলেম তৈরি করা। সুতরাং আমরা আগে সেটাই নিশ্চিত করবো। সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর যতোটা সম্ভব সাধারণ শিক্ষার অন্তর্ভূক্তি হবে। তাতে আমাদের আপত্তি নেই।
এছাড়াও আমরা সরকারি চাকরি-বাকরি করার চিন্তা থেকে স্বীকৃতি নেই নি যে, সাধারণ সিলেবাসের মতো করে সিলেবাস সাজাতে হবে যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা চাকরি পায়।
ইসলাম টাইমস : এসএসসি পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা কি সরকারের নির্দেশনায় হচ্ছে?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : না, সরকার এ বিষয়ে এখনও আমাদের কিছু বলেনি।
ইসলাম টাইমস : অনেকেই আশঙ্কা করছে, কওমি মাদরাসা আলিয়ার পরিণতি বরণ করবে। আপনার কি মনে হয়, এমন হতে পারে ভবিষ্যতে?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : আলিয়া মাদরাসার সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। আলিয়ার পরিণতি হবে যদি আমরা সরকারি সিলেবাস ও অনুদান গ্রহণ করি। আমরা তো তা করছি না। তাছাড়া আমরা স্বীকৃতি নিয়েছি শুধু দাওরায়ে হাদিসের। পুরো শিক্ষা কারিকুলামের স্বীকৃতি তো নেইনি। আমি আশা করি, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করবেন।
ইসলাম টাইমস : ক্রমান্বয়ে অন্যান্য শ্রেণির স্বীকৃতি নেয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : সেটা পরবর্তীতে চিন্তা-ভাবনা করে দেখা যাবে। এখনও কিছু ভাবিনি।
ইসলাম টাইমস : ভোটের রাজনীতিতে স্বীকৃতির কোনো প্রভাব পড়বে বলে আপনি মনে করেন?
মাওলানা আবদুল কুদ্দুস : রাজনীতির সঙ্গে হাটহাজারীর হজরত ও আমি কেউ কোনোভাবে জড়িত নই। সুতরাং এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্যও করবো না। আমাদের শুকরিয়া জানানো দরকার ছিলো আমরা জানিয়েছি।
















