রমযানে বুজুর্গদের সবকিছুই পাল্টে যেত। বিশেষত রমযানের শেষ দশকে তারা ইবাদত বন্দেগীর জন্যে হাদীসের ভাষায় কোমরে গামছা বেঁধে লাগতেন। বুজুর্গদের রমজানের বিভিন্ন অবস্থা জানা যায় যাকারিয়া রহ. বিখ্যাত কিতাব আকাবির কা রমযানে। খোদ যাকারিয়া রহ. এর রমযানও ছিল বুজুর্গদের রমযানের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তাঁর (১৩৯৫হি.) রমযানের শেষ দশকের কিছু মালফুযাত সংকলন করেছেন হযরতের খলীফা জনাব যাকী ভূপালি ছাহেব। মালফুযাতের কিছু চম্বুক অংশ ইসলাম টাইমসের পাঠকদের অনুবাদ করেছেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম ।
হযরত শায়খের রমযানের একাগ্রতা
হযরত ইরশাদ করেন : আমার তো আমার পুরনো রমযানুল মুবারক খুব মনে পড়ে। হাকীম তৈয়ব রামপুরীর উক্তি আমি বারবার শোনাই যে, ‘রমযান আল্লাহর ফযলে আমাদের এখানেও আসে; কিন্তু এমন জ্বরের মতো আসে না।’
ঐসময় দু’চার জন লোক (আমার নিকট রমযান মাস কাটানোর নিয়তে) পুরাতন মাদরাসায় আসত। ব্যস এটুকুই। আসরের পর হাফেয মুহাম্মাদ হুসাইন সাহেবকে পারা শোনানোর মা‘মুল ছিল। তারাবীহর পর এক ঘন্টা বন্ধুদের সঙ্গে একান্তে ব্যয় হত।
আমার প্রিয়রা! আমি এজন্য শোনাইনি যে, তোমরা খুশি হয়ে যাবে; বরং এজন্য শোনালাম যে, তোমরা কিছু করে নাও। বুযুর্গদের বাণী-
جو ہمارا ابتدا دیکھے وہ کامیاب اور جو ہمارا انتہا دیکھے وہ ناکام ہے۔
‘যে আমাদের শুরু দেখবে সে সফল। আর যে আমাদের শেষ দেখল সে ব্যর্থ।’
এজন্য বুযুর্গদের ওখানে শুরুতে মুজাহাদা-সাধনা হত। আর শেষে ফুতুহাত ও সফলতা আসত।
আমার বন্ধুরা! কিছু করার দ্বারাই হয়। যে শুরু থেকেই পীর হওয়ার জন্য দৃঢ়-সংকল্প হয়, সে কামিয়াব হয় না।
আমি একটি ঘটনা শোনাই। এক ছেলে কোথাও যাচ্ছিল। পথে দেখল, একজন গুরু। তার চেলা তার খুব খেদমত করে যাচ্ছে। সে চিন্তা করল, এ খেদমত করা তো আমাকে দিয়ে হবে না। এজন্য বলতে লাগল, এসেছি তো চেলা হতে; কিন্তু এখন আমাকে গুরুই বানিয়ে দাও। খুব মজা লাগে।
প্রিয়রা! মেহনত-মুজাহাদা দিয়ে কিছু হয়। যৌবন বয়সে কিছু করে নাও। নতুবা বৃদ্ধ বয়সে শুধুই আফসোস করতে হবে।
সময়ের সঠিক মূল্যায়ন
আমার প্রিয়রা! আমি প্রতি বছর বারবার বলতে থাকি, নিজের সময় অপচয় করো না। অবসর সময়ে কুরআনে পাক তেলাওয়াত করো। যারা হাফেয, তারা নফল নামাযে কুরআনে পাক শোনাও।
আমার তো আমার ঘরের মেয়েদের প্রতি করুণা হয়। তারা রাতভর তেলাওয়াতের মধ্যে, নফলের মধ্যে কুরআনে পাক শোনার মাঝে কাটিয়ে দেয়। দিনে যখন ঘুমানোর সময় হয়, তখন বাচ্চারা জেগে ওঠে এবং তাদেরকে খুব বিরক্ত করে। ঘুমোতে দেয় না। ঘরোয়া কাজকর্মের ভেতরও পনের-বিশ পারা প্রতিদিন অনায়াসে পুরো করে নেয়। হক তাআলা শানুহূ নিজ রহমতে কবুল করুন। আরো বেশির তাওফীক দান করুন।
তোমাদের জন্য তো অনেক সুযোগ-সুবিধা। খানাপিনা প্রয়োজন পরিমাণ মিলে যাচ্ছে। খানার পর চা, সেহরিতে চা পেয়ে যাচ্ছো। তোমাদের কারণে অনেক মানুষের যোহরের পরে ব্যবস্থাপনার কাজে লাগতে হয়।
আমার প্রিয়রা! তোমরা নিজেদের সময়ের কদর করে নাও। কথাবার্তা একদম বলো না। আমাদের সকলের নিয়ত এমন হোক যে, দুনিয়াতে দ্বীনের যত শাখায় কাজ চলছে, সবগুলোকে আল্লাহ তাআলা সাফল্য দান করুন। মসজিদসমূহের জন্য, মাদরাসাসমূহের জন্য, মারকাযসমূহের জন্য যত দোআ করবে, ততই উন্নতি লাভ করবে। ততই তুমি সওয়াব পাবে। তোমার সব কাজে অংশগ্রহণ করা তো মুশকিল। হ্যাঁ, দোআর মাধ্যমে অবশ্যই অংশগ্রহণ হতে পারে। হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদ : إنما الاعمال بالنيات (সমস্ত আমলই নিয়ত অনুযায়ী ধর্তব্য।) একটি আমলে যত নিয়ত করে নিবে, সবগুলোর সওয়াব পাবে।মৃত্যুর স্মরণ
দেখো ভাইয়েরা! এইমাত্র তোমরা যে ব্যক্তির জানাযার নামায মাগরিবের নামাযের পর পড়েছ, সে তোমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্র খাস খাদেম ছিল। সে আজ তোমাদের মাঝে নেই।
আমার প্রিয়রা! আমাদেরও একদিন এ অবস্থাই হবে। আমাদের সঙ্গে ওখানে কী ঘটবে- তা আমরা জানি না। আমার একটি পুস্তিকা আছে, ‘মওত কি ইয়াদ’ (মৃত্যুর স্মরণ)। এটা মনোযোগসহ অধ্যয়ন করো।
এর মধ্যে একটি ঘটনা লেখা আছে, এক বুযুর্গের সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। কেউ একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করল, এটি কার জানাযা? তিনি বললেন, এটা তোমার জানাযা। যদি তোমার এ উত্তরটি শুনতে খারাপ লাগে, তাহলে এটা আমার জানাযা। তুমি নিজেকে চিন্তা করো। একদিন আমারও এ অবস্থাই হবে। জানা নেই, সৌভাগ্যের দরজা খুলবে, না দুর্ভাগ্যের। আমি ‘মওত কি ইয়াদ’-এর মধ্যে অনেক ঘটনা লিখেছি। খুব গুরুত্বের সঙ্গে পাঠ করো।
আমার প্রিয়রা! মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণে রাখো। সবাইকে মরতে হবে। যখন কোনো জানাযা অতিক্রম করবে, তখন চিন্তা করবে, এটা আমার জানাযা। ভাই, যত পারো বেশি বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করো।
বন্ধুরা! আমি এটাও জানি না যে, আমি মদীনা যেতে পারব কি না। অবস্থা আপনারা দেখছেন। কারো জীবনের ভরসা নেই। আমার কথা মেনে নাও। যে মাশায়েখগণ হায়াতে আছেন, তাঁদের প্রতি রুজু করো। তা-না হয় পরে তোমরা বলবে, আমরা কার দিকে রুজু করব? আল্লাহ করেন, আমি জীবিত নিরাপদে মদীনা মুনাওয়ারা পৌঁছে যাই। এজন্য আমার আন্তরিক পরামর্শ হল, তোমরা অন্য মাশায়েখের দিকে রুজু করে নাও।
আরো পড়ুন: এবারের রমজান মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ: মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
আমার প্রিয়রা! সরাসরি মালিকের সঙ্গে যত সম্পর্ক সৃষ্টি করবে, কামিয়াব হয়ে যাবে। মালিকের কাছে চাও। কেঁদে কেঁদে চাও। আমার হযরত কয়েকবার আমাকে বলেছেন, আমি কিছু নই। আমার দৃষ্টান্ত নলের (টিউবওয়েল) ন্যায়। যত জোরে টানবে, ততই ফয়যের উৎস থেকে আসবে। নিজেকে অন্তর থেকে তুচ্ছ মনে করো। এমন না হয় যে, মুখে ফকির বলছ, কিন্তু অন্তরে বড়াই রয়েছে।
আমার হযরত মাদানী রাহ. বলেছেন, যে নিজেকে যোগ্য মনে করল, সে তো সবকিছু খুইয়ে দিল। যা কিছু মালিকের পক্ষ থেকে দান হচ্ছে, সব বিনা যোগ্যতায় হচ্ছে।
কাজ করলেই কাজ হয়
আমার প্রিয়রা! রমযানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ কেটে গেছে। যা কিছু করার করে নাও। জানা নেই, আগামী রমযান কার নিকট আসবে, কার নিকট আসবে না। যা কিছু উসুল করার, উসুল করে নাও। করলেই হয়। না করলে কিচ্ছু হয় না।
একবার এক ব্যক্তি হযরত আকদাস রায়পুরী রাহ.-এর নিকট যায়। দু’দিন পর নিজের সঙ্গীদেরকে বলতে থাকে, এখানে তো অনেক জাঁতা পিষতে হয়। এ কথাটি হযরত রায়পুরী রাহ.-এর নিকট কেউ জানিয়ে দেয়। হযরত বললেন, আমরাও জাঁতা পিষেছি। আমাদেরকেও জাঁতা পেষার কথা বলা হয়। যদি কোথাও তৈরি করা শিরনী পাওয়া যায়, তাহলে সেখানে চলে যাও।
মেহনত, পরিশ্রম ব্যতীত কোনো কাজ সম্ভব নয়
দুনিয়ার কোনো কাজই বিনা মেহনতে, বিনা পরিশ্রমে হওয়া সম্ভব নয়। ব্যবসা হোক, কৃষিকাজ হোক সবকিছুতে খাটাখাটনি করতে হয়। একইভাবে দ্বীনের কাজও কষ্ট ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু উভয়টির মধ্যে ফারাক আছে। দুনিয়া তো কখনো মেলে, কখনো মেলে না। কিন্তু দ্বীনের কাজে এমন নয়। বরং সেখানে সর্বাবস্থায় প্রতিদান। বহু মানুষ দুনিয়াবি শিক্ষার ডিগ্রি অর্জন করে ঘুরে ফিরতে থাকে। কিন্তু চাকরি মেলে না। একই অবস্থা ব্যবসার। দ্বীনের বিষয়ে মুজাহাদা নিষ্ফল হয় না। হযরত গাঙ্গুহী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুর ইরশাদ-
اللہ کا نام چاہے کتنی ہی غفلت سے لیا جائے اثر کئے بغیر نہیں رہتا۔
‘আল্লাহ্র নাম যতই উদাসীনতার সঙ্গে নেয়া হোক; প্রভাব সৃষ্টি না করে থাকে না।’
আমার প্রিয়রা! আল্লাহর নাম নিতে থাকো। মৃত্যুর পর এটাই কাজে আসবে। আমার প্রিয়রা! আমার কথা মানো। পরে আর তোমাদেরকে বলার কেউ থাকবে না। যখন কেউ মৃত্যুবরণ করে, তখন এখানকার লোকেরা তো এটা বলে যে, পরিবার-পরিজনের জন্য কী রেখে গিয়েছে? আর ওখানকার লোকেরা বলে, কী নিয়ে এসেছ? অতএব, যা কিছু তোমার নিকট রয়েছে, ওখানের জন্য পাঠিয়ে দাও। নিজের প্রয়োজনের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ রাখো। সেখানে তো নিজ নিজ কর্ম, নিজ নিজ ফল। আর পরিবার-স্বজন দু’দিন কাঁদবে। এরপর কেউ কাঁদবে না। সমবেদনা জ্ঞাপনকারীরা মিথ্যা দু’ফোঁটা অশ্রু ফেলবে। আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন!
নীরব মজলিস এবং তার ফায়দা
বললেন : বড়দের মজলিসে অনেক জায়গায় নিয়ম দেখেছি না বলার। চাচাজান মাওলানা ইলয়াস সাহেব নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুর মজলিসেও এক যুগ ছিল না বলার। হযরত সাহারানপুরী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুর দরবারে আসরের পর মজলিস হত। পাঁচ-সাতজন মানুষ থাকত। সবাই চুপচাপ বসে থাকতেন। কেউ কোনো কথা জিজ্ঞেস করলে হযরত নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহু উত্তর দিতেন। তা-না হয় খামোশ মজলিস থাকত।
হযরত মাদানী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহু নিজের কাছে রমযান কাটাতে অনেক বার ইঙ্গিত করেছেন; কিন্তু স্পষ্ট বলেননি।
১৩২৮হি. থেকে ১৩৪৪হি. পর্যন্ত রমযান হযরত সাহারানপুরী রাহ.-এর নিকট কাটিয়েছি। বয়ান ইত্যাদি হত না; কিন্তু ব্যস ভেতরেই গেঁথে যেত।
বললেন : শুরুর যুগে যখন গরমকালে রমযান হত, আমি সারারাত তারাবীহর পারা পড়তাম। নফল নামাযেও সেগুলোকেই তেলাওয়াত করতাম। তবে আমার চেষ্টা থাকত, দিনরাত মিলিয়ে মোট ত্রিশ পারা যাতে পূর্ণ হয়ে যায়। ঐ যুগে সাহারানপুরে ফকিরদের অভ্যাস ছিল, ভিক্ষা করার সময় খুব জোরে জোরে হাঁকডাক দিত। আমি উপরে লেখার ঘরে বসে শুনতে পেতাম। তারা কখনো বলত, ‘ধন লাগি বাবা ধন, ধন লাগি বাবা ধন’। আরো বলত, ‘হাথো সে কাম করো, দিল সে পড়ো।’
আমার পেয়ারে বন্ধুরা! আমরা তো শেষ হয়ে গেলাম। তোমাদের সময় আছে কিছু করার। মনকে গাফেল রেখো না।
গত রমযান আর এ রমযানের মধ্যে কী পার্থক্য হয়েছে
গত রমযান আর এ রমযানের মধ্যে কী পার্থক্য হয়েছে। এ রমযানে কি কথাবার্তার পরিমাণ কমেছে? নফলের পরিমাণ বেড়েছে? রাতে বেশি সময় জেগে থাকছেন? আগে তো মানুষ খানাপিনাকে অত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করত না। যেটুকু খেয়েছে- আল্লাহর ইহসান-অনুগ্রহ। মাওলানা শাহ অসিউল্লাহ সাহেব রাহ.-এর দরবারে রমযানে খাবারের ইন্তেযাম থাকত না। প্রত্যেকে নিজ নিজ খানার ব্যবস্থা করত। যখন সেহরির সময় হত, তখন শেষরাতে নিজ পুটুলি থেকে নিজের খানা নিজে খেয়ে নিত। চা পান করতে হলে নিজ নিজ পাত্রের ব্যবস্থা রাখত। হযরত থানবী রাহ.-এর দরবারেও একই রকম মা‘মুল ছিল। আমাদের এখানে আল্লাহ তাআলা মেহমানদেরকে খানাপিনার ব্যবস্থাপনা থেকে নিশ্চিন্ত করে দিয়েছেন। যাতে রমযান থেকে অধিক আহরণ করতে পারেন। আয়োজক সাথীরা মেহমানদের খানাপিনার আয়োজনে থাকেন। তাঁদের বেশি সওয়াব হয়। কারণ, মেহমানদের জন্য নিজেদের সবকিছু কুরবান করেন তারা। মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ সাহেব কয়েক ঘন্টা চা পান করানোতে ব্যয় করেন। নান্না মিয়া (হযরতের জনৈক খাদেম বাবুর্চি) বেচারা চব্বিশ ঘন্টা খাবার রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে।
আরো পড়ুন: করোনায় রমজান: তারাবির আওয়াজে গুঞ্জরিত লাখো ঘর
আমার প্রিয়রা! তোমরা নিজেদের রমযান একাগ্রতার সঙ্গে কাটাও। সারা মাস কিছু হিম্মত করে নাও। প্রতিদিন ঘোষণা হয়, নিজেদের সময় নষ্ট করো না। এ ঘোষণায় কি আসর হয় না? তোমরা বন্ধুদের দোআয় আলহামদু লিল্লাহ আজ শরীর অনেক ভালো। তবে মাঝে মাঝে মাথা ঝিম্ ঝিম্ করে। (এ সময় হযরত একটি কবিতা পাঠ করেন-)
دل ڈھونڈنا سینے میں میرے بو العجبی ہے/ یاں راکھ کا اک ڈھیر ہے اور آگ دبی ہے۔
‘বুকের মাঝে হৃদয় খোঁজা আমার নির্বুদ্ধিতা / এখানে ছাই আছে একগাদা, আর আছে চাপা আগুন।’
নিজের জিনিসের সংরক্ষণ নিজে করবে
বুযুর্গদের স্মৃতি
আমার প্রিয়রা! শুধু ঘটনা দিয়ে কিছু হয় না। করার দ্বারা হয়। ঘটনা তো এ দু’চোখ অনেক দেখেছে, মাশায়েখের যুগও অনেক দেখেছে। হযরত গাঙ্গুহী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুর যুগও দেখেছে। ঐ সময় আমার বয়স আড়াই বছর ছিল যখন গাঙ্গুহ প্রথম হাযির হয়েছিলাম। যখন হযরতের ইন্তেকাল হয় তখন আমার বয়স আট বছর। হযরত গাঙ্গুহী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহু যখন ঘর থেকে খানা খেয়ে খানকায় তাশরীফ আনতেন, তখন পরিবেশ একদম নীরব হয়ে যেত।
হযরত শাইখুল হিন্দ নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুর যিয়ারত এ অধমের প্রথমবার গাঙ্গুহে হয়। হযরত নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুর কোমরে হাজ্বীদের ন্যায় কোমরবন্দ বাঁধা থাকত। আর হাতে থাকত লাঠি।
















