ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইসলামী দলগুলোকে সরকার ‘আশকারা’ দেওয়ার ফলেই তারা এখন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যও অপসারণের দাবি তোলার সাহস দেখাচ্ছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগেরই জোটসঙ্গী দল জাসদ (ইনু) এর প্রধান দুই নেতা হাসানুল হক ইনু ও শিরিন আক্তার।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশসহ দেশের তাওহীদী জনতা ওই দাবি তোলার পর আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া না গেলেও হেফাজতের বিরোধী হিসেবে পরিচিত হাসানুল হক ইনুরা সরব হয়েছেন।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ওই দাবিকে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর জবাব জনগণই দেবে।
রাজধানীর ধোলাইখালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে সে কাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি তুলেছেন মাওলানা মামুনুল হক।
শুক্রবার ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ধোলাইখালে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সু-সন্তান হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান একজন মুসলিম হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার মূর্তি তৈরি করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন, এটা বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে বেইমানি করা হবে।”
আরো পড়ুন : ভাস্কর্যের পরিবর্তে আল্লাহর নাম অঙ্কিত স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবিতে ধুপখোলা মাঠে গণসমাবেশ
ভাস্কর্যকে “অনৈসলামিক’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন সময় তার বিরোধিতায় নেমেছে ইসলামী দলগুলো। কয়েক বছর আগে হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে জাস্টিস লেডির ভাস্কর্যও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী দল জাসদ এক বিবৃতিতে বলেছে, “সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্য স্থানান্তরিত করার মধ্য দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশকারা দেওয়ার ফলেই আজ এই অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করার দুঃসাহস দেখাতে পারছে।”
এই ধরনের দলগুলোকে আর এক চুলও ছাড় না দিতে আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “আর এক চুল ছাড় না দিয়ে পাকিস্তানপন্থি ধর্ম ব্যবসায়ী, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গিবাদী ভাস্কর্য বিরোধীদের কঠোরভাবে দমন করার জন্য সরকারের প্রতি এবং এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানাই।”
জাসদ বলছে, ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান আসলে বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধেই অবস্থান এবং যারা এই দাবি তুলেছে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চায়।
এম এস আই
















