পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন: ‘বাংলাদেশীদের ভয়ে বাধ্য হয়ে বিএসএফ গুলি করে ফেলে’

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের দুষ্ট ব্যবসায়ীদের অস্ত্রের ভয়ে বাধ্য হয়ে ভারতীয়রা যখন গুলি করে, তখন সীমান্ত হত্যা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, কিন্তু সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো নেতিবাচক কিছু বিষয়ের জন্য এটির দুর্নাম হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাঝে ভার্চুয়াল আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের লোকজন ইন্ডিয়ার বর্ডারের অনেক ভেতরে ঢুকে যায়। অস্ত্র নিয়ে যায়। গোলাগুলিও হয়। বোমাও নিয়ে যায়। (সীমান্তহত্যা) আসলে একতরফা দোষ না। আমাদেরও কিন্তু দোষ। আমাদের কিছু দুষ্টু ব্যবসায়ীরা সেখানে অবৈধভাবে যায়। তাদের কাছে অস্ত্রও থাকে। তখন বিএসএফ ভয়ে বাধ্য হয়ে গুলি করে ফেলে।’

‘আমরা বাংলাদেশি লোক, আমাদেরও হতাশ করে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে এটির সমাধান করা সম্ভব। আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। আমরা তাদের বিশ্বাস করতে চাই। আমরা চাই না একজন লোকও সীমান্তে মারা যাক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা সময়ে সময়ে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এত সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে কলঙ্ক তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশ আবার জারি করবেন। পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য দুই দেশের সমন্বয়ে ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ প্রস্তাব দিয়েছি। ভারত এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং শিগগিরই নতুন এই বিষয়টি কাজ করবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন- প্রাণঘাতী নয় (নন-লিথেল) এমন অস্ত্র ব্যবহার হবে।’

বিএসএফ ঘুষ খায় এ সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি সাংবাদিকদের ইস্যু। আমরা শুনেছি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বিএসএফ ঘুষ খায় এবং এই ব্যবসায় প্ররোচিত করে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের আরও লেখা উচিত।’

এ সময় তিনি জানান, ভারতের দেয়া রাষ্ট্রীয় ঋণ কেন ও কোথায় আটকে যায়; তা দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কে আব্দুল মোমেন জানান, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্পর্ককে সোনালি অধ্যায় হিসেবে অবহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

-এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদম্যাক্রোঁর করোনা শুনে সেলফ-আইসোলেশনে ইউরোপীয় নেতারা
পরবর্তি সংবাদরাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সামনে অনড় তুরস্ক