মুফতি মাসউদুল করীম। দেশের বিশিষ্ট আলেম ও দারুল উলুম, টঙ্গীর প্রিন্সিপাল। সমাজে চলমান জুলুম অত্যাচার ও তার প্রতিকার নিয়ে কথা বলেছেন ইসলাম টাইমসের সঙ্গে। তার আলোচনায় উঠে এসেছে জুলুমের স্বরূপ, পরিণতি ও ভয়াবহতা। মুঠোফোনে তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আতাউর রহমান খসরু।
ইসলাম টাইমস : জুলুম বা অবিচার কাকে বলে?
মুফতি মাসউদুল করীম : জুলুমের বিভিন্ন স্তর ও ক্ষেত্র রয়েছে। বুনিয়াদিভাবে (মৌলিকভাবে) কাউকে প্রাপ্য অধিকার না দেওয়াই জুলুম। সেটা আল্লাহর ক্ষেত্রে হতে পারে। যেমন, শিরক করা। আল্লাহর অবাধ্য হওয়া। আবার বান্দার ক্ষেত্রেও হতে পারে। যেমন কারো অধিকার নষ্ট করা।
ইসলাম টাইমস : আল্লাহর দরবারে জুলুমের শাস্তি কী?
মুফতি মাসউদুল করীম : পবিত্র কুরআনে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা জালিমকে পছন্দ করেন না। হাদিসে এসেছে, জুলুম কেয়ামতের দিন ভীষণ অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে। সুতরাং জালিম অবশ্যই আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। আসলে জুলুমের বিভিন্ন প্রকার ও স্তর রয়েছে। যে পর্যায়ের জুলুম হবে, তার পরিণতিও সেই পরিমাণ ভয়াবহ হবে।
ইসলাম টাইমস : একটি সমাজের বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন জুলুমে লিপ্ত হয়, সেই সমাজের ভবিষ্যত কী?
মুফতি মাসউদুল করীম : পবিত্র কুরআনে পূর্ববর্তী জাতিগুলো সমূলে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ৫টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। যার একটি জুলুমের বিস্তার। কোনো জাতির মধ্যে জুলুম ছড়িয়ে পড়লে সে জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেন। তাদের উপর দুনিয়াতে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি নেমে আসে। যেমন, ভূমিকম্প, ভূমিধস, খড়া-অনাবৃষ্টি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং সামাজিক শান্তি-শৃংখলা নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।
ইসলাম টাইমস : মানে সমাজে চলমান জুলুমের প্রতিকারে মানুষ এগিয়ে না এলে জুলুমের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে!
মুফতি মাসউদুল করীম : হ্যা, আল্লাহ সেই সমাজে জুলুমের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। তা দেন শাস্তি হিসেবে।
ইসলাম টাইমস : সাধারণ মানুষকে জুলুমের হাত থেকে রক্ষা করা যাদের দায়িত্ব –তারা যদি জালিমে পরিণত হয়। তাদের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়ত কী বলে?
মুফতি মাসউদুল করীম : তাদের দুটি পাপ হয়। এক. জুলুম করার পাপ, দুই. দায়িত্ব অবহেলা বা পালন না করার পাপ। সুতরাং তাদের শাস্তিও হবে দ্বিগুণ।
ইসলাম টাইমস : আর কেউ জালিমের সহযোগী ও সহযাত্রীদের একজন হলে?
মুফতি মাসউদুল করীম : তাদের ব্যাপারে হাদিসের বক্তব্য হলো, কেউ ভালো কাজ শুরু করলে বা তাতে সহযোগিতা করলে তার আমলকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব তারা পাবেন। আর কেউ মন্দ কাজ করলে, তাতে সহযোগিতা করলে বা তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করলে মন্দ কাজকারীর সমপরিমাণ পাপের ভাগিদার হবে। মোটকথা জালিমের সহযাত্রীদের শাস্তি জালিমের মতোই।
আরও পড়ুন : মিথ্যাবাদী নেতাদের পরিণতি হয় ভয়াবহ : আল্লামা সাজিদুর রহমান
ইসলাম টাইমস : অনেক সময় শাসক বা ক্ষমতাসীনদের হাতে মানুষ জুলুমের শিকার হয়।
মুফতি মাসউদুল করীম : জালিম শাসকের সবচেয়ে বড় শাস্তি আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার প্রতিপক্ষ হবেন, তার দিকে বারাআত (ক্ষমা ও পাপমুক্তি)-এর দৃষ্টিতে তাকাবেন না। আর অতীত ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, দুনিয়াতে আল্লাহ কখনও নিজে অত্যাচারীকে ধ্বংস করে দেন। আবার কখনও তার চেয়ে অধিক জালিম কাউকে তার উপর বিজয়ী করেন।
ইসলাম টাইমস : একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের করণীয় কী?
মুফতি মাসউদুল করীম : আমাদের প্রথম কাজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জুলুম প্রতিকারের চেষ্টা করা। মানুষের ভেতর নীতি-নৈতিকতা জাগিয়ে তোলা। ধর্মীয় অনুশাসন বাড়ানো। বিশেষত প্রচার মাধ্যমে জুলুমের প্রতিবাদ ও প্রতিকারের কর্মসূচি থাকা আবশ্যক।
ইসলাম টাইমস : আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
মুফতি মাসউদুল করীম : আল্লাহ আপনাদেরকেও উত্তম প্রতিদান দিন।
















