নিজস্ব প্রতিবেদক : পঞ্চগড়ের আহমদনগরে কাদিয়ানিদের কথিত ইজতেমা বন্ধের দাবিতে আজ ঢাকার পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে আবার প্রেস এসে শেষ হয়।
বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি ও জামিয়া হালিমিয়া মধুপুরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আবদুল হামিদ প্রতিবাদ সভার সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামধারী কাদিয়ানি অমুসলিমদের কথিত জাতীয় ইজতেমা বন্ধের দাবি জানান। সাথে সাথে তারা পঞ্চগড়ে আজ মুসলিম জনসাধারণ ও উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
তারা বলেন, অমুসলিম কাদিয়ানী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন যাবত এদশের ধর্মপ্রাণ নিরীহ মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করছে। জাতীয় ইজতেমার নামে পঞ্চগড়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার মহা আয়োজন করেছে বলে আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। আমরা সরল মুসলিমদের ঈমানহারা করার এই আয়োজন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা পঞ্চগড়ের উলামায়ে কেরামের সঙ্গে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের অশোভন আচরণ ও কাদিয়ানিদের পক্ষপাতের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিক হয়ে তিনি উলামায়ে কেরামের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
আরও পড়ুন : পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি ইজতেমা : মন্ত্রী বললেন, কাদিয়ানিরা ভালো!
তিনি একজন মুসলিম হয়ে কাদিয়ানিদের পক্ষপাত কীভাবে করলেন তা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভায় বক্তব্য রাখেন, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি ইমাদুদ্দীন, ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়াত মুভমেন্টের আমীর মুফতি শোয়াইব ইব্রাহীম, মহাসচিব মুহাম্মদ নাজমুল হক, আমরা ঢাকাবাসীর সভাপতি হাজী শামছুল হক, খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আলীম নেজামী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ও খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী সভায় বক্তব্য দেন। তারা খতমে নবুওয়াতের এই আন্দোলনের পক্ষে নিজ নিজ দলের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, মুফতি হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, মুফতি মিজানুর রহমান, হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাওলানা আজিজুল হক শেখ সাদী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড়ে কাদিয়ানি জামাত আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় ইজতেমা’ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং ইজতেমা সফল করতে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যাতে সাধারণ মুসলমানের বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। এতে এলাকার মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের তৈরি হয়েছে। তারা মুসলিম নামধারী অমুসলিম সম্প্রদায়ের ইজতেমাসহ সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।
















