শাহ মুহাম্মাদ খালিদ ।। টঙ্গী থেকে
ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ ফজর বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক। দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় তিনি দাওয়াত ও তাবলীগকে নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিতে জোর তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, এটা আপনাদের অনেক বড় সৌভাগ্য যে, সারা বিশ্ব থেকে অসংখ্য মানুষ দ্বীনের কাজ শেখার জন্য আপনাদের দেশে আসে। আপনাদের এই দেশ এখন সারা আলমের হেদায়াতের মাধ্যম হয়ে গেছে। এটা আপনাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় নেয়ামত। এই নেয়ামতের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুতরাং বিদেশ থেকে যেসব সাথী আপনার এলাকার মসজিদে এসে অবস্থান করেন, আপনাদের কর্তব্য তাদেরকে সময় দেওয়া এবং তাদেরকে আপনার এলাকার সাধারণ মানুষদের কাছে নিয়ে যাওয়া। যাতে তারা দ্বীনের দাওয়াতকে বেশি থেকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
বয়ানে দুইজন আরবের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আরব বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমার আগে অপর আরবকে ইজতেমায় আসার জন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন। তখন ঐ আরব বলেছিল বাংলাদেশ আমি কেন যাব? কোরআন আমার ভাষায় নাজিল হয়েছে, নবীজি আমাদের দেশে আগমন করেছিলেন। সুতরাং বাংলাদেশ যাওয়ার কি প্রয়োজন? তখন অন্য আরব বললেন, মনে করুন আপনার কোন মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে গেল। আপনি খবর পেলেন আপনার হারানো সেই সম্পদ বাংলাদেশে পাওয়া গিয়েছে তাহলে কি আপনি বাংলাদেশ যাবেন না? দ্বীনের এই কাজ এটাও একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ। নিজে দ্বীনের উপর চলা এবং অন্য ভাইকে দ্বীনের উপর চালানোর চেষ্টা করা এই কাজ আমাদের সম্পদ। এই সম্পদ আমরা হারিয়ে ফেলেছি। মাশাআল্লাহ বাংলাদেশে আল্লাহ তায়ালা এই সম্পদ নতুন ভাবে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করা এবং সেখানে তাবলিগে সময় লাগিয়ে দ্বীনের এ সম্পদ আহরণ করা।
মানুষকে দ্বীনের দিকে ডাকার ক্ষেত্রে একটা মূলনীতি উল্লেখ করে মাওলানা জিয়াউল হক বলেন, আমার মাধ্যমেই ওই ভাইয়ের হেদায়াত হতে হবে, আমার মাধ্যমেই তাকে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে এবং সে যদি আমার দাওয়াত কবুল না করে তাহলে আমার দাওয়াত ব্যর্থ হয়ে গেল, আমি ব্যর্থ হয়ে গেলাম এমনটা ভাবা ভুল। কারণ অনেক নবী এমন ছিলেন যারা সারাজীবন দাওয়াত দিয়েও একজন মানুষকে ঈমানদার বানাতে পারেননি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ওই নবী ব্যর্থ হয়েছিলেন। এটা ঐ নবীর ব্যর্থতা নয়। বরং যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল তাদের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা যার জন্য যতটুকু কল্যাণ রেখেছেন সে শুধুমাত্র ততটুকু কল্যাণই লাভ করতে পারবে। যে জিনিস আল্লাহ লিখে রাখেন নাই আমি আপনি হাজার চেষ্টা করেও তাকে অস্তিত্ব দান করতে পারবো না এ কারণেই দোয়ার মধ্যে বলা হয়েছে اللهم لامانع اه لما اعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد হে আল্লাহ আপনি যা দান করেন তাতে বাধা প্রদানকারী কেউ নেই এবং আপনি যেটা দিতে অস্বীকৃতি জানান সেটা দেয়ার মত কেউ নেই। অতএব দেয়া এবং না দেয়ার মালিক যে আল্লাহ তাআলা, সেই একীন এবং বিশ্বাসকে নিজেদের দিলের মধ্যে বসানো জরুরি।
মাওলানা জিয়াউল হক বলেন, আল্লাহ যদি কারো পক্ষে না থাকেন তাহলে দুনিয়ার সব আসবাবপত্র থাকলেও তার কোন লাভ নেই। ফেরাউন, কারুন, নমরুদ, হামান— ব্যক্তি হিসেবে বলেন আর আদ জাতি, সামুদ জাতি, কওমে লূত— জাতি হিসেবে বলেন, এরা সবাই তাদের নিজ নিজ যমানার সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্ষমতাশালী ছিল। কিন্তু তাদের আমল খারাপ হওয়ার কারণে আল্লাহ তাদের পক্ষে ছিলেন না। ফলে আল্লাহর গজব যখন আসলো তখন তাদের শক্তি-ক্ষমতা এবং টাকা-পয়সা তাদেরকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দ্বীনের যে কাজগুলো আছে সেগুলোর প্রতিটির জন্যই আল্লাহ তায়ালার ‘আজর ও ঝাজর’ (পুরস্কার ও শাস্তি) আছে। এ কারণে ফাযায়েলের মজমায় বেশি বেশি বসা উচিত আমাদের। আমরা যখন বিভিন্ন আমলের ফজিলত জানবো তখন সেই আমল করার আগ্রহ আমাদের মধ্যে তৈরি হবে। তবে সেই আমলের সঠিক পদ্ধতি কী, সেটা আমরা আলেমদের কাছ থেকে জেনে নিব। আলেমদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থেকে দ্বীনের কোন কাজই সঠিক পন্থায় করা যাবে না। অতএব যারা আলেমদের থেকে দূরত্ব অবলম্বন করে তাদের সংস্পর্শে অপছন্দ করে তারা মূলত নিজেদের ধ্বংস ও বরবাদির যাবতীয় আয়োজন চূড়ান্ত করছে।
















