মানুষকে আল্লাহমুখী করাই দাওয়াতি মেহনতের মূল উদ্দেশ্য : মাওলানা ইবরাহিম দেওলা

শাহ মুহাম্মাদ খালিদ ।। টঙ্গী থেকে

মানুষ যতক্ষণ আল্লাহর হুকুম মোতাবেক চলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়ার আসবাব থেকে সে উপকৃত হবে। আর সে অবাধ্য হলে এই সব আসবাবের মধ্যেই আল্লাহ তার জন্য ধ্বংস লিখে দেবেন। এই বিশাল জগতের আকাশ, জমিন, পানি, মাটি, বাতাস সবই আসবাব। এসব আসবাব ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের কাজে আসবে যতক্ষণ সে আল্লাহ তায়ালার হুকুম অনুযায়ী তার জীবনকে যাপন করবে। তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত থাকবে। মাঝে মাঝে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার আমরা হই, প্রকৃতি থেকে উপকার লাভের বদলে ক্ষতিগ্রস্ত হই তার কারণ আমাদের অবাধ্যতা, আমাদের নাফরমানি।

আজ বাদ মাগরিব আম বয়ানে এভাবেই মানুষকে আল্লাহমুখী হওয়ার আহবান জানান তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি ভারতের মাওলানা ইবরাহিম দেওলা।

তিনি বলেন, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই আমরা এর বাহ্যিক কারণগুলো খুঁজতে থাকি। কিন্তু এগুলোর মূল উৎস ও কার্যকারণ আমাদের পাপাচার সে কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। অথচ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ

যে বিপদ ও বালা মসিবতে তোমরা আক্রান্ত হও। তা তোমাদের কৃতকর্মের কারণেই।

অতএব আমরা যদি আমাদের আমলকে ঠিক করে নেই এবং আল্লাহর নাফরমানি থেকে দূরে থাকি তাহলে এসব প্রাকৃতিক জিনিস আমাদের ক্ষতি করা থেকে দূরে থাকবে। এ কারণেই হিজরতের পর মদিনায় গিয়ে রাসূল সা. যে দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে এটাও ছিলো যে, যদি কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ভালো রাখে তাহলে মাখলুকের সাথেও আল্লাহ তার সম্পর্ক ভালো রাখবেন আর যদি আল্লাহর সাথে কারো আনুগত্যের সম্পর্ক না থাকে তাহলে মাখলুকের সাথে তার সম্পর্ক আল্লাহ ভালো রাখবেন না। মাখলুকাত থেকে তার নানা রকম ক্ষয়ক্ষতি হতেই থাকবে।

মাওলানা ইবরাহিম দেওলা আরও বলেন, মাখলুককে (সৃষ্টি) পাওয়ার জন্য কেউ যদি সারা জীবন ব্যয় করে দেয় তবুও সে মাখলুককে পাবে না। কিন্তু বান্দা যদি মাখলুকের খালেকের (স্রষ্টা) সাথে সম্পর্ক জুড়তে পারে তাহলে খালেকের অধীনস্থ সমস্ত মাখলুক এমনিতেই তার নাগালে চলে আসবে।

জীবন ও সম্পদের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে দুইটা জিনিসকে আমরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি জীবন ও সম্পদ, তার একটাও চিরদিন আমাদের সাথে থাকবে না। জান এক সময় চলে যাবে, জান চলে গেলে মালও অন্যের যাবে। তাই জান-মালকে নিজেদের ভাবা ভুল। হজরতজি ইউসুফ রহ. বলতেন, তাবলিগের উদ্দেশ্য তাদেরকে এই ভুল ধারণা থেকে বের করা।

আলোচনার শেষ দিকে মাওলানা ইবরাহিম দেওলা বলেন, মানুষ যাতে সহজে আমলের ওপর উঠতে পারে সেজন্য সমস্ত আমলের সাথে সাথে ফাজায়েল ও মাসায়েল বলে দেয়া হয়েছে। মানুষ যখন শুনবে অমুক আমল করলে এত এত পুরস্কার, তখন সেই আমলটি করার জন্য সে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরপর আমলটি সে কিভাবে আদায় করবে সে জন্য তার মাসায়েলও জানার প্রয়োজন হয়। অতএব আমাদেরকে শরিয়তের প্রতিটি হুকুমের ফাজায়েল ও মাসায়েল জানতে হবে। যাতে আমলহীন মানুষকে আমলের ওপর তোলা যায়।

তাবলিগ জামাতের এই বরেণ্য মুরব্বি বলেন, দেখে দেখে সবকিছু করা যায় না। কিছু জিনিস হাতে কলমে শিখতে হয়। সাঁতার কাটা অথবা সাইকেল চালানো যেমন দেখে দেখে শেখা যায় না তদ্রূপ দূর থেকে দেখে দ্বীনের কাজ যথাযথভাবে আদায় করা যায় না। তাই দ্বীনের এসকল কাজ শেখার জন্য আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদকবি আল মাহমুদ আর নেই
পরবর্তি সংবাদদৈনিক বিশ্ব ইজতেমা: কাগজের পাতায় ইজতেমার বয়ান