ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি এলাকায় এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকাবাসীর গণপিটুনির পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মিজমিজি অক্সফোর্ড হাই স্কুলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে র্যাব। এছাড়া তাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকেও আটক করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হেনস্তা করেছি। অনেক শিক্ষার্থীকে ব্লাকমেইল করে অবৈধভাবে ছবি তুলেছি, গোপনে ভিডিও করেছি। আমি বড় অপরাধ করেছি। আমি শিক্ষক হিসেবে লজ্জিত। আমার শাস্তি হওয়া উচিত।’
এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট আকারে ‘অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন’ নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন জুলফিকার। পরে স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ চারতলা ভবনটি কিনে নেন তিনি। আর আশরাফুল এই স্কুলে আট বছর ধরে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন। স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ছাত্রীদের কোচিং করানোর জন্য তিনি নিজের বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। স্ত্রী-সন্তান না থাকলেও ওই ফ্ল্যাটে তিনটি বিছানা রয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি কোচিং ব্যবসার আড়ালে পরীক্ষার খাতায় বেশি নম্বর দেওয়া এবং লেখাপড়ায় বাড়তি সহায়তার মতো নানা প্রলোভন দেখিয়ে ২০ জনের অধিক ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলেন। একপর্যায়ে তাদের আপত্তিকর ছবি তুলে তা ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ওই সব ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করেন। লোকলজ্জার ভয়ে ছাত্রীরা এসব নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করেনি।
র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত অক্সফোর্ড স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং স্কুলের বাইরের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কৌশলে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে আমরা জেনেছি। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী তার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে সকাল থেকে অক্সফোর্ড হাই স্কুল ঘিরে রেখে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তারা আরিফুল ইসলামের শাস্তি দাবি করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা যদি নিরাপদ না থাকে তার চেয়ে দুচিন্তার আর কিছু নেই। আমি ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
















