এবার পশ্চিম তীরের একটি মসজিদ শহীদ করে দিল ইসরাইল

ইয়াহইয়া বিন আবু বকর নদভী ।।

আজ ( বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১) সকালে ইসরায়েলি দখলদার সেনারা দক্ষিণ পশ্চিম তীরে নির্মাণাধীন একটি মসজিদ এবং একটি পানির কূপ ধ্বংস করে দেয়।

মসজিদের পাশের একটি বিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিচালক ‘মুহাম্মদ ইয়তিমিন’ বলেন, আজ সকালে ইসরায়েলি সামরিক যানবাহন হিব্রনের দক্ষিণে ইয়াত্তা শহরের পূর্বদিকে ‘‘উম্মে কূসাহ’’ অঞ্চলটিকে ঘিরে ফেলে এবং ১৪০ বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত মসজিদের ভিত্তি এবং স্তম্ভগুলি ভেঙে দেয়।

তিনি আরো বলেন, দখলদার কর্তৃপক্ষ মসজিদের কাছের একটি বিদ্যালয়ের ব্যবহৃত একটি পানিক কূপও ভেঙে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা কিছুদিন আগে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসির নিকট অনুমতি ব্যতীত মসজিদ নির্মাণের অজুহাতে মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলার নোটিশ দিয়েছিলো।

তারা আরো জানান, মসজিদ কিংবা গৃহ নির্মানের জন্য দখলদার কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা দীর্ঘদিন টালবাহানা করে৷ কিন্তু পরে আর অনুমতি দেয় না। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে ফিলিস্তিনিরা গৃহ নির্মাণ করে৷

১৯৯৫ সালে আরব ইসরাঈল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘অসলো’ চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরের জমিগুলিকে তিনটি অঞ্চলে শ্রেণিবদ্ধ করেছে: A, এ অঞ্চলটি ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে৷ b. এঅঞ্চল থাকবে ইসরায়েলী নিয়ন্ত্রণে ৷ c, এটি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের নিয়ন্ত্রণে৷ কিন্ত ইসরায়েলী সেনারা এ চুক্তি ভঙ্গ করে ফিলিস্তিনিদের অংশ দখল করা শুরু করে দিয়েছে৷ এবং অসংখ্য বাড়ি ঘর ও মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছে৷

সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ এই বছর জেরুজালেমের ১৪০ টি বাড়িঘর ভেঙে ফেলে, যার অধিকাংশ ফিলিস্তিননিদেরকে নিজ হাতে ভাঙ্গতে বাধ্য করে৷ এছাড়াও ৩৮৯ টি বাড়ি বাজেয়াপ্ত করে৷ ফলে বহু ফিলিস্তিনি পরিবার গৃহচ্যুত হয়৷

আরবী ‘ইউ এন নিউজ’ , আলজাজিরা ও আল কুদসের তথ্যানুসারে ২০০৪ থেকে নিয়ে ২০২০ সালের মধ্যে ১১১১শো’র ও বেশি বাড়িঘর তারা ভেঙে দেয়৷ অথচ বাড়িঘর উপাসনালয় ও শিক্ষাপতিষ্ঠান ধ্বংস করা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ৷ কিন্ত দখলদার ইসরায়েল এ আইনের তোয়াক্কা করছেনা৷ অথচ জাতিসংঘ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে৷ মনে হচ্ছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যই সঠিক ছিলো, যখন তিনি ২০১৯ সালে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ পরিষদে এক ভাষণে

বলেছিলেন: জাতিসংঘকে কয়েকটি শক্তিশালী দেশ নিজেরদের ইচ্ছামতো চালায়৷ ফলে সে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম৷ সুতরাং জাতিসংঘের ভিত্তি নবায়নের প্রয়োজন৷ কিছু দেশ তার এই কথার সমর্থন ও করেছিলো৷

দখলদার ইসরায়েলিদের এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে ১৬৭০ এরও বেশি শিশু সহ প্রায় ৩১২০ ফিলিস্তিনি নাগরিক গৃহচ্যুত হয়েছিল। এবং জমী বাজেয়াপ্ত করেছে ( ফিলিস্তিনের হিসাব মতে) ২৪ হাজার ৫ শত ডুনাম৷ অতঃপর এ জমীনগুলো জেরুজালেমের অন্তর্ভূক্ত করে নেয়৷ এক ডুনাম ইংরেজি হিসাবে এক হাজার মিটারের একটু বেশি৷

জেরুজালেমে দখলদার কর্তৃপক্ষ এই বছরের শুরু থেকেই অন্তত দশটি  পরিবারকে তাদের নিজ হাতে বাড়িঘর ভেঙে ফেলতে বাধ্য করে। এবং বসতি স্থাপনের কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় আরো বৃদ্ধি করে দেয়৷

সূত্র : আলকুদস ও আলজাজিরা এবং আরবী ইউ এন নিউজ৷

-এসএন