চিঠিতে বিষ দিয়ে তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপতিকে হত্যাচেষ্টা, সন্দেহের চোখে ইসরাইল

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়িস সাঈদ। ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কঠোর সমালোচক। তাকে চিঠির মধ্যে অত্যন্ত বিষাক্ত পাউডার দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতির বরাত দিয়ে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলবাবা এ তথ্য জানিয়েছে।

বিষমিশ্রিত চিঠিটি প্রেসিডেন্টের কার্থেজ প্রাসাদে পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে তার কাছে যাওয়ার আগে সব ধরনের চিঠিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা না জানা গেলেও সন্দেহের চোখ ইসরাইলের দিকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিষাক্ত পদার্থ যদি কয়েক মিলিগ্রামও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে ঢোকে, তাহলে ওই ব্যক্তির তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত “বিষযুক্ত খাম” সম্পর্কে ব্যাপক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যা খোলামাত্রই রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের পরিচালকের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

ওয়েব নিউজ ‘আজিল’ তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ কর্তৃক জারি করা বিবৃতি উদ্ধৃত করে আরো জানায়, ২৫ শে জানুয়ারি দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে আসা মেলবক্সে রাষ্ট্রপতির নামযুক্ত করে একটি চিঠি রাখা ছিল। কিন্তু তাতে প্রেরকের নাম কোথাও লেখা ছিল না।

রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের পরিচালক এটি পরীক্ষা করার জন্য খামটি খোলার সাথে সাথে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, খামটি খোলার সাথে সাথেই পরিচালক দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন এবং তার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন। খামটিতে কোনও চিঠি ছিল না এবং এটি খালি ছিল।

দেশটির রাষ্ট্রপতি কায়িস সাঈদের ভাই নোফাল জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট সুস্থ রয়েছেন। তাকে হত্যার প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে ৯৯ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশটির প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টায় ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের অন্যতম কঠোর সমালোচক কায়িস সাঈদ।

-এমএসআই