ইসলাম টাইমস ডেস্ক : করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মার্চের শেষ দিক থেকে কাশ্মিরে কঠোর লকডাউন চলছে। এই লকডাউনের মধ্যেই সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মুসলিম নিধন অভিযান জোরালো করেছে ভারত।
এরমধ্যে বুধবার কাশ্মিরের মূল শহর শ্রীনগরের একটি তল্লাশি চৌকিতে এক তরুণকে হত্যা ভারতীয় বাহিনী। ভারতীয় বাহিনীর দাবি, সংকেত অমান্য করে ওই তরুণ গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে আসতে থাকলে সেনা সদস্যরা গুলি ছোঁড়ে। তাদের দাবি ওই সময়ে একটি সামরিক বহর ওই এলাকা অতিক্রম করায় হামলার আশঙ্কা করছিলেন তারা।
ওই তরুণের বাবা গুলাম নবি শাহ নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন তার ছেলে কোনও তল্লাশি চৌকির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালায়নি। সেনাবাহিনী প্রথমে তাকে থামিয়ে পরে গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফিরদৌসা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান সংকেত পাওয়ার পর ওই তরুণ গাড়ি থেকে নেমে পড়ে। তিনি বলেন, ‘এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিছু বললে জবাবে ওই তরুণ জানায় তার জরুরি কাজ আছে। তারা ওই ব্যক্তিকে যেতে বলে কিন্তু গাড়িতে ওঠার পর তার পিছন দিক দিয়ে গুলি করা হয়।’ প্রত্যক্ষদর্শী এই নারী বলেন, ‘তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে কোনও ভুল করেনি।’
ওই তরুণের মৃত্যুর খবর তার গ্রামে পৌঁছালে হাজার হাজার নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে আসে। ভারত বিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তারা ওই তরুণের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। তাৎক্ষনিকভাবে মরদেহ ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় কর্তৃপক্ষ।
গ্রামবাসীর বিক্ষোভ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। জবাবে শটগানের গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এই সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে হতাহতের পরিমাণ জানা যায়নি। পরে ওই এলাকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮০’র দশকে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরুর পর কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে শত শত তল্লাশি চৌকি ও বাঙ্কার স্থাপন করেছে ভারতীয় সেনারা। স্বাধীনতার প্রশ্নে কাশ্মিরের এই প্রতিরোধে সেখানে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
















